জীববিজ্ঞান / প্রথম অধ্যায় / জীবন পাঠ

bio1

প্রথম অধ্যায়
জীবন পাঠ

মানব সভ্যতা বিকাশে বর্তমান শতকের চ্যালেঞ্জ খাদ্য উৎপাদনে, চিকিৎসাশাস্ত্রের উন্নয়নে এবং বিরূপ পরিবেশে জীবের অস্থিত্ব রক্ষায় জীববিজ্ঞানের ভূমিকা অপরিসীম। এই অধ্যায়ে জীববিজ্ঞানের সংজ্ঞা, শাখাসমূহের নাম ও জীবের নামকরণের পদ্ধতি আলোচিত হয়েছে।

 

01

জীববিজ্ঞানের ধারণা

প্রকৃতিতে আমরা সাধারণত জড় পদার্থ ও জীব এই দুই ধরনের বস্তু দেখতে পাই। জড় পদার্থের গুণাগুণ পদার্থ বা রসায়ন বিজ্ঞাব শাখায় পর্যাআলোচনা করা হয়। আর জীবের জীবন ও গুনাগুন নিয়ে যে শাখায় আলোচনা করা হয় তাকে জীববিজ্ঞান বলে। জীববিজ্ঞান প্রকৃতি বিজ্ঞানের প্রাচীনতম শাখা। পৃথিবীতে প্রথম জীবের আগমনের আগেই এর প্রেক্ষাপট তৈরী হয়েছিল, এ সম্বন্ধে তোমরা উচ্চতর শ্রেণিতে আরও জানতে পারবে।

জীববিজ্ঞান শিক্ষায় উদ্ভিদ, বিভিন্ন প্রাণী ও মানব জীবন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। সৃষ্টিজগতে জীবকোষের মধ্যে প্রাণের স্পন্দন এক রহস্যপূর্ণ বিষয়। এ কারনে জীববিজ্ঞানের জ্ঞান জীবদেহের বিভিন্ন অংশ ও অঙ্গের গঠন, বিভিন্ন রাসায়নিক কার্যক্রম, পরিবেশের সঙ্গে খাপ-খাওয়ানো, পুষ্টি গ্রহন কিংবা প্রজননে প্রধান ভূমিকা রাখে। জীবনের সব ধাপে কোষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমাদের দৈনন্দিন কাজে ও অভিজ্ঞতায় বিজ্ঞানের অবদান রয়েছে। অর্থাৎ বেঁচে থাকার জন্য পরিবেশের উপাদানে জীববিজ্ঞানের মূল ভিত্তি অন্তর্নিহিত রয়েছে। হাঁটা চলা করার সময় পা পরিচালনা করে আমাদের পেশি, পেশিকে চালনা করে স্নায়ুতন্ত্র, আর রক্ত সংবহনতন্ত্র পেশির রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে অক্সিজেন, পুষ্টি ও শক্তি যোগায়। এক কোষী প্রাণী একইভাবে অক্সিজেন, পুষ্টি ও শক্তি ব্যাবহার করে বেঁচে থাকে। আর বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন অক্সিজেন ও শক্তি। প্রাণী এ শক্তি সবুজ উদ্ভিদ দ্বারা উৎপাদিত খাদ্য ও অন্যান্য উৎস থেকে পেয়ে থাকে।

বিজ্ঞানের অন্যতম একটি মৌলিক শাখা জীববিজ্ঞান । জীববিজ্ঞানের ইংরেজি পরিভাষা Biology । Biology দুটি ল্যটিন শব্দ bios অর্থ জীবন এবং logos অর্থ জ্ঞান এর সমন্বয়ে গঠিত। গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্ট্টলকে (খৃস্টপূর্ব ৩৮৪-৩২২) জীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়। বিজ্ঞানের যে শাখায় জীবের গঠন, জৈবনিক ক্রিয়া এবং জীবন ধারণ সর্ম্পকে সম্যক বৈজ্ঞানিক জ্ঞান পাওয়া যায় তাকেই জীববিজ্ঞান (Biology) বলা হয়।

জীববিজ্ঞানের শাখাসমূহ

জীবের ধরণ অনুসারে জীববিজ্ঞানকে প্রধান দুটি শাখায় ভাগ করা হয়, যথা উদ্ভিদ বিঞ্জান ও প্রাণী বিজ্ঞান। জীবের কোন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে জীববিজ্ঞান কে আবার ভৌত জীববিজ্ঞান ও ফলিত জীববিজ্ঞান এ দুটি শাখায় ভাগ করা হয়।

ভৌত জীববিজ্ঞান

ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। এতে সাধারণত নিচের উল্লেখিত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়।
১. অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয় কে বহিঃঅঙ্গসংস্থান (external morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয় কে আন্তঃঅঙ্গসংস্থান (internal morphology) বলা হয়।

২. শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা বা ট্যাক্সোনমি (Taxonomy): জীবের শ্রেণীবিন্যস ও রীতিনীতিসমূহ এ শাখার আলোচিত বিষয়।

৩. শরীরবিদ্যা (Physiology): জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি এ শাখায় আলোচিত হয় ।এছাড়াও জীবের যাবতীয় শরীরবৃত্তিয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়।

৪. হিস্টোলজি(Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন ,বিন্যাস ও কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়।