ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ সহশিক্ষা কার্যক্রম

ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার
October 2, 2016
পড়ার প্রতি আপনার সন্তানকে আগ্রহী করে তুলতে কিছু পরামর্শ
February 9, 2017
Show all

মুগ্ধ প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির খতিয়ান ক্লাস শেষে রুমে বসেই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা জমান ছাত্রছাত্রীরা। কেউ কম্পিউটার নিয়ে বসে পড়েন। কেউ ছোটেন ক্লাবে।দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে আছে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক সংগঠন। ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা পরিচালিত সংগঠনগুলো হলো_মেডিসিন ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, সত্যেন সেন চলচ্চিত্র পরিষদ, প্রতিবেশী নাট্যগোষ্ঠী, রক্তাদাতাদের সংগঠন সন্ধানী এবং লিও ক্লাব। আরো আছে অঙ্গীকার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ঐতিহ্য সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এসব ক্লাবের হয়েই সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা।
এ ধরনের সংগঠন এর সাথে যুক্ত থাকার বেশ উপকার রয়েছে। বিদেশে পড়াশোনা করতে গেলে, এ ধরনের সংগঠন এর সাথে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা কে বেশ গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়।
ব্যাক্তিগত পর্যায়ে এবং NGO এর উদ্যোগে কিছু কাজ করা হয়। যেমন মোজ্জামেল হক এর উদ্যোগে আছে BD cyclist Club, photography community,

সামিউল ব্যাংকিং বিভাগে পড়েছেন। বর্তমানে বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলে কর্মরত। সংবাদ উপস্থাপনা, টকশো পরিচালনার পাশাপাশি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বড় অনুষ্ঠানগুলোও উপস্থাপনা করছেন। দেশ-বিদেশে তার অনেক সুনাম! নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে সামিউল জানালেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নিয়মিত বিতর্কচর্চাই তাকে আজকের এ পর্যায়ে আসতে সাহায্য করেছে।

মহিদুল হক স্বনামধন্য সাহিত্যিক। প্রতিবার একুশে বইমেলায় তার বই প্রকাশ হয়। পাঠকমহলে তার বইয়ের প্রচুর চাহিদা। বয়স পঞ্চাশ না ছুঁতেই আশিটির ওপর বই লেখা শেষ করেছেন। পত্রপত্রিকায় নিবন্ধ, গল্প-উপন্যাসও প্রকাশ হচ্ছে নিয়মিত। অবিশ্বাস্য ব্যাপার হলো, মহিদুল হক ছিলেন কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকে নিয়মিত কবিতা-গল্প ছড়াও পত্রপত্রিকায় লেখালেখি তাকে কম্পিউটার বিশেষজ্ঞের পরিবর্তে স্বনামধন্য সাহিত্যিক বানিয়ে দিয়েছে! ওপরের গল্পগুলো আজকের যুগে কল্পনা নয়, বাস্তবতা।

এই সময় মূল শিক্ষার গুরুত্ব যেমন আছে, তেমন আছে সহশিক্ষারও। অনেক সময় সহশিক্ষাগুলোই গৌরবোজ্জ্বল সব সাফল্য এনে দিচ্ছে। এ বাস্তবতার নিরিখেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে ৫০ ভাগ মূলধারার শিক্ষার অবদান, বাকি ৫০ ভাগ সহশিক্ষার। নিয়মিত পড়ালেখার পাশাপাশি লেখালেখি, সাহিত্যচর্চা, বিতর্ক, উপস্থাপনা, গান, নৃত্য, ভাষাজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, আবৃত্তি, স্কাউটিং, স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রম ইত্যাদি যে কোনো একটি কিংবা একাধিক বিষয়ে কেউ সম্পৃক্ত থাকলে তাকে আর পেছনে তাকাতে হয় না। বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে গিয়ে তিনি নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারেন। এ সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অদ্বিতীয় বিদ্যাপীঠ হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সর্বোচ্চ এ বিদ্যাপীঠে মূলধারার শিক্ষার পাশাপাশি রয়েছে ছাত্রছাত্রীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের অতুলনীয় সব প্লাটফরম।

প্রমিত উচ্চারণ ও আবৃত্তি : নিজের জন্যই প্রমিত বাংলায় কথা বলা প্রয়োজন। এটি একটি বড় গুণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৪টি জেলার ছাত্রছাত্রীদের সমাগম ঘটে। স্বভাতই ছাত্রছাত্রীদের মাঝে আঞ্চলিকতার প্রভাব প্রকট। কিন্তু আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন কিংবা পড়ালেখা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে আত্মনিয়োগ করছেন, অথচ নিজের ভাষাটাই শুদ্ধ করে বলতে পারছেন না, এটি লজ্জার ব্যাপার। এ লজ্জা থেকে রেহাই পেতেই প্রয়োজন প্রমিত উচ্চারণ ও আবৃত্তিচর্চা। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)-কেন্দ্রিক এর জন্য রয়েছে অসংখ্য সংগঠন। দৃষ্টি, কণ্ঠশীলন, আবৃত্তি একাডেমি, কণ্ঠস্বর, কথা, প্রজন্মকণ্ঠ, মুক্তধারা, ত্রিলোক, হরবোলা তেমনই কয়েকটি সংগঠন। প্রতিদিনই টিএসসি চত্বরে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে নতুনদের আগমনের অপেক্ষায় থাকেন।
ভাষা শিক্ষা : ভাষাবিদ ও দার্শনিক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রায় ২২টির মতো ভাষা জানতেন। আপনি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হতে পারবেন না হয়তো। কিন্তু এই পর্যায়ে এসে মাতৃভাষা ছাড়াও অন্তত একটি বিদেশি ভাষায় দখল থাকা উচিত। বিশ্বায়নের এ যুগে বিষয়টি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। একটি বিদেশি ভাষা জানা থাকলে আপনি আর দশজনের চেয়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ভাষা শিক্ষার সুবর্ণ সুযোগ। ১৯৭৩ সালে ঢাবিতে প্রতিষ্ঠিত হয় আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউট। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি, আরবি, চীনা, সংস্কৃত কোরীয়, ফরাসি, জার্মান, ইতালীয়, জাপানি, ফারসি, রুশ, স্পেনীয়, তুর্কিসহ ১৪টি ভাষা শেখানো হচ্ছে। এসব ভাষার ওপর সংক্ষিপ্ত, জুনিয়র, সিনিয়র, ডিপ্লোমা ও উচ্চতর ডিপ্লোমা; চার বছর মেয়াদি কোর্স চালু রয়েছে। সময় ক্ষেপণ না করে আপনিও শিখে নিতে পারেন যে কোনো একটি ভাষা, আর একধাপ এগিয়ে নিতে পারেন নিজেকে।

বিতর্কচর্চা : বিতর্ক একজন শিক্ষার্থীকে স্মার্ট, বিনয়ী, যুক্তিবাদী, প্রগতিশীল এবং সৃষ্টিশীল করে তোলে। সুন্দর বাচনভঙ্গির মাধ্যমে মানুষকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা অর্জন করতে পারেন বিতার্কিকরা। নিয়মিত বিতর্ক অনুশীলন হাতছানি দেয় উন্নত ক্যারিয়ারের। বিতর্কচর্চার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটিই (ডিইউডিএস) আদর্শ জায়গা। ‘প্রকাশই প্রতিভা’ নীতিবাক্য নিয়ে ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের বিতর্ক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছে সংগঠনটি। উদ্দেশ্য, বিতার্কিক তৈরির জন্য কর্মশালা, সভা-সেমিনার, পাঠচক্র, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং আয়োজন করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে রয়েছে এর ক্লাব পর্যায়ের কার্যক্রম। বিভাগ ও ইন্সটিটিউট পর্যায়েও ডিইউডিএসের শাখা আছে। টিএসসির দ্বিতীয় তলায় সংগঠনটির সদর দপ্তর অবস্থিত।

সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, অভিনয় ও ফটোগ্রাফি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে সঙ্গীত, অভিনয়চর্চা এবং ফটোগ্রাফি শেখার গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফরম। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ছাড়াও রয়েছে জয়ধ্বনি সাংস্কৃতিক সংগঠন, দৃষ্টি, হরবোলা, মুক্তধারা, পদাতিক, নাট্যদল, বিশ্বকলা কেন্দ্র, দেশ নাট্যদল, আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ। সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের নিয়ে সুস্থধারার চলচ্চিত নির্মাণ, প্রশিক্ষণ এবং অভিনয় বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। ১৯৯৯ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফি সোসাইটি শিক্ষার্থীদের আলোকচিত্র বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। এ ছাড়া সম্প্রতি যাত্রা শুরু করেছে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল সোসাইটি’, যেটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রথম উদ্যোগ। সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গীত, অভিনয়, সাংবাদিকতা, ফটোগ্রাফিসহ সবধরনের সহশিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে কাজ করছে। টিএসসি-কেন্দ্রিক এসব সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছাত্রছাত্রীরা বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন।

তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিবেশ রক্ষা কার্যক্রম : তথ্যপ্রযুক্তির যুগ এটি। তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান ছাড়া বর্তমানে কোনো কিছুই সম্ভব নয়। স্বভাতই এ ক্ষেত্রে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে থাকতে পারেন না। এ জন্যই ছাত্রছাত্রীদের তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান বৃদ্ধি এবং সচেতন করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১১ সালে যাত্রা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটি (ডিইউআইটিএস)। যুগের প্রয়োজনে প্রযুক্তিনির্ভর গঠনমূলক ও সৃষ্টিশীল প্রজন্ম গড়ে তোলাই এ সংগঠনটির প্রধান উদ্দেশ্য। যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা সব সময় এগিয়ে এসেছেন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় নানা সময়ে শিক্ষার্থীরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কিন্তু এতদিন ছিল না সাংগঠনিক প্রচেষ্টা। পরিবেশ সুরক্ষায় এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে যাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের পরিবেশ বিষয়ে সচেতন করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১১ সালে শুরু হয় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ’। ছাত্রছাত্রীরা এর সদস্য হয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করতে পারেন। এ ছাড়া ভ্রমণ, পর্যটন শিক্ষা ও পর্যটনশিল্পে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য রয়েছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ট্যুরিস্ট সোসাইটিও। ১৯৯৫ সাল থেকে সংগঠনটি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

মানবসেবা কার্যক্রম : অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, পথশিশুদের বিনামূল্যে পাঠদান, শীতার্তদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ, অসুস্থ মানুষকে জরুরি ভিত্তিতে রক্তদান ইত্যাদি কাজে বছরজুড়েই সম্পৃক্ত থাকেন ছাত্রছাত্রীরা। এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ক্যাম্পাসে রয়েছে অনেক সংগঠন, যার মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন ‘বাঁধন’, ‘ড্রিম বাংলাদেশ’, সজ্জা অন্যতম। ‘একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন’ এ সস্নোগান ধারণ করে ‘বাঁধন’ যাত্রা করে ১৯৯৭ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে বাঁধনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে এটি দেশজুড়ে বিস্তৃত সংগঠন। ২০১২ সালে কিছু স্বপ্নবাজ তরুণের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে যাত্রা করে ‘ড্রিম বাংলাদেশ’। ২০১৩ সাল থেকে সংগঠনটি রক্তদান কর্মসূচি, পথশিশুদের পাঠদান এবং রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু পরিবারকে অর্থ সাহায্যদানের মাধ্যমে আলোচনায় আসে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এর সক্রিয় কমিটি কাজ করছে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা-ই ড্রিম বাংলাদেশের লক্ষ্য।

নেতৃত্ব গঠন ও ক্যারিয়ার : বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচার পতন আন্দোলনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন ছাত্র-শিক্ষকরাই। সময়ের আবর্তনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভূমিকাও রাখছেন। বৈশ্বিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে দক্ষতাসহ যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ‘ডিউমুনার’ মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মডেল ইউনাইটেড নেশন্স অ্যাসোসিয়েশন তথা ডিউমুনা ২০১২ সাল থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলনের আদলে বার্ষিক সম্মেলন আয়োজন করছে। এর বাইরে ছাত্রছাত্রীদের ক্যারিয়ার-বিষয়ক নির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব। সূচনালগ্ন থেকে আজ অবধি সংগঠনটি সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত সংগঠনটি চারটি ক্যারিয়ার ফেয়ার, অসংখ্য সেমিনার, কর্মশালা ও ট্রেনিং সেশনের আয়োজন করেছে।

শরীরচর্চা ও শৃঙ্খলা : ‘সুস্থ দেহ প্রশান্ত মন কর্মব্যস্ত সুখী জীবন’। এ অমিয় প্রবাদ সব সময় মানবজীবনে সত্যে পরিগণিত হয়। শারীরিক সুস্থতা ছাড়া কোনো কাজেই সুখ নেই। সুস্থ দেহ, প্রশান্ত মন ছাড়া জীবন বৃথা। আবার শৃঙ্খলা ছাড়া মানবজীবন অসম্পূর্ণ। এ কারণে কর্তৃপক্ষ শুরু থেকে ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলার দিকটিকে প্রাধান্য দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস প্রভৃতি সংগঠন এ ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা দিচ্ছে। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে রয়েছে ইয়োগা, সাঁতার, জুডো ও কারাতে শেখার সহজ ব্যবস্থা; আছে ব্যায়ামাগার। এ ছাড়াও আছে প্রতি বছর আন্তঃহল, আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এসব প্রতিযোগিতায় ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, টেনিসসহ জনপ্রিয় সব খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে ‘জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও একতা’ মূলনীতি নিয়ে সেই ১৯২৩ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল কাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর কার্যক্রম। ছাত্রছাত্রীদের নৈতিক উন্নয়ন, নেতৃত্বের গুণাবলি ও শৃঙ্খলা বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সংগঠনটি। এটি সেনা, নৌ ও বিমান শাখা নিয়ে গঠিত। সাপ্তাহিক, বার্ষিক প্রশিক্ষণ, শীতকালীন মহড়া, বৃক্ষরোপণ, স্বেচ্ছায় রক্তদানে অংশগ্রহণ, বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন ইত্যাদি বিএনসিসির অন্যতম কাজ।

1 Comment

  1. alamgir says:

    i always appreciate

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *