Early childhood development (ECD)

শিশুদের সামার ক্যাম্প:
aisd-school
সারা বছর ক্লাস, পরীক্ষা আর রুটিন মাফিক জীবন যাপনে শিশুরা হাঁপিয়ে উঠে, এছাড়াও শহরের কর্মব্যস্ত বাবা মায়েদের পক্ষে শিশুর সার্বক্ষনিক সঙ্গী হয়ে উঠা সম্ভব হয় না আবার বছর জুড়ে স্কুল থাকায় বাদ পরে যায় নানা সৃজনশীল কাজে অংশগ্রহণ। এই অবসর সময়কে কাজে লাগাতেই মূলত গ্রীষ্ম কালীন বন্ধে বাচ্চাদের শিক্ষা মূলক নানা কার্যক্রমে যুক্ত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ । উন্নত দেশগুলোতে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে সামার ক্যাম্প খুবই জনপ্রিয় ।আমাদের দেশে এটি এত প্রচলিত না হলেও কিছু কিছু কার্যক্রম চালু হয়ে গেছে।
 
সামার ক্যাম্প গুলো সাধারণত ৩-৮ সপ্তাহের জন্য হয়ে থাকে। ৫-১২ বছরের শিশুরা এতে অংশ নিতে পারে। বয়স অনুযায়ী কোর্সগুলোর ধরণ ভিন্ন হয়ে থাকে, এছাড়া প্রতি গ্রুপে ১৫-২০ জন অংশ নিতে পারবে আর সাথে থাকবেন একজন শিক্ষক আর একজন সহ শিক্ষক ।শিশুদের শিক্ষামূলক , সৃজনশীল ও গঠনমূলক কার্যক্রমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে অরিগেমি , শিশু উপযোগী ইয়োগা, সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট , ইংরেজি ভাষা উন্নয়ন কোর্স, গণিত শিক্ষা, সঙ্গীত ও অভিনয়, মৃৎ শিল্পের নানা সৃষ্টি, বই পড়া, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাতার কাটা, বাস্কেট বল সহ নানা ইনডোর ও আউট ডোর খেলার আয়োজন ,রান্না সহ আরও নানা কার্যাবলী।
 
বাংলাদেশে প্রথম বারের মত এই সামার ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৩ই জুন সানরাইজ সামার ক্যাম্প ,আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের পৃষ্ঠপোষকতায় । ১৩ই জুন থেকে ১৫ই আগস্ট এই ক্যাম্প চলে এই বছর । মিস আনিসা হক, প্রোগ্রাম হেড, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ই ন্সটিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট ঢাকার বেশ কয়েকটি স্কুল যেমন স্কলাস্টিকা, বিআইটি, মানারাত, স্যার জন উইলসন, ডিপিএস, সী ব্রিজ, শহীদ আনোয়ার স্কুল এই প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছিল ।
এছাড়াও রেইনবো ভ্যালে নামক একটি সংস্থাও (Rainbow Valley. Learning Hub For Early Childhood Development) এই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।
এই ধরনের প্রোগ্রাম শিশুদের সামাজিক আর মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সচেতনতা সৃষ্টি করে। প্রতিটি শিশুর-ই আলাদা আলাদা সেক্টরে আগ্রহ থাকে, এই ধরনের প্রোগ্রামে অংশগ্রহন করার মাধ্যমে জীবনের প্রথম ভাগ থেকেই বাচ্চারা আত্ম বিশ্বাস অর্জন করতে পারবে, আর তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ বাড়বে। হয়ে উঠবে আত্মনির্ভরশীল ।
বিদেশে সামার ক্যাম্প, বা গ্রীষ্মের ছুটিতে extracurricular activities খুবই জনপ্রিয়, এবং সব ছাত্রছাত্রীকে গ্রীষ্মের ছুটিতে এ ধরনের কাজে অংশ গ্রহন করা অত্যাবশ্যকীয়। এ সময় তাদেরকে স্কুল থেকে, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। হাতে কলমে group work, team work শিখানো হয়। আমাদের দেশে স্কুল ভিত্তিক এ ধরনের কার্যক্রম চালু করা, বা বেসরকারি ভিত্তিতে হলে খুব জরুরি। কারন আমরা, বাচ্চাদের অনেককেই, English medium school এ ঠিক ই পড়াচ্ছি, যারা একসময় বিদেশে যেয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখে। সেক্ষেত্রে। খুব ছোটবেলা থেকেই, বাচ্চা কি ধরনের extracurricular activities বা club activities এর সাথে জড়িত ছিল, সেটা বিশ্ববিদ্যালয় খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখে। বাসায় ঘরে বসে internet দেখেও, বাচ্চা কে পড়ার বইয়ের পাশে অন্য বই পড়া, music composition, free hand drawing শিখাতে পারেন, যেক্ষেত্রে smartphone এর বিভিন্ন mobile application আপনাদের কাজে লাগবে

Autism:

অটিজম একটি ব্যাধি যাতে মস্তিষ্কের গঠন অসম্পূর্ণ থাকে । এই রোগে আক্রান্তদের সামাজিক অনেক বিষয়ে সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয় যেমন মনের ভাব আদান প্রদান , মৌখিক, অমৌখিক, পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ ইত্যাদি বিষয়ে অনেক দুর্বল হয় ।

লক্ষণসমূহঃ
  • অনেক দেরিতে কথা বলতে শেখে/ অনেক ক্ষেত্রে কথায় বলতে পারে না ।
  • স্বাভাবিক শ্রবণ শক্তি থাকালেও তাদের নাম ধরে ডাকলে সাড়া দেয় না ।
  • পিতামাতার সঙ্গে জড়াজড়ি করে শুতে আপত্তি করে ।
  • নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায় যখন অন্য কেউ তাকে কোন কিছু করতে বলে ।
  • সম বয়সীসহ অন্য বয়সীদের সাথে মিশতে চায় না, এমনকি জন্মদিন পার্টি ও অপছন্দ করে ।
  • কারও চোখে চোখ রাখে না

12

চিকিৎসাঃ

অটিজমের চিকিৎসা একবারেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রিক। শিশুদের পরিবারের সকলকেই এই পরিচর্যায় অংশ নিতে হবে এবং তারা একটি প্রফেশনাল টিম হিসাবে কাজ করবে । কিছু পরিচর্যা বাড়িতেই করতে হবে । কিছু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ কেন্দ্রে, স্কুলে ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মত জায়গায় হবে । এটি শুধু পারিবারিক নয় বরং একটি সমন্বিত উদ্যোগ ।
34

অটিজম সম্পর্কিত কিছু ভিডিও ক্লিপ্স লিঙ্ক দেওয়া হলঃ


 

 

 

 

 

 

 

15161718

Dyslexia:

ছোট বাচ্চাদের প্রাথমিকভাবে পড়তে অসুবিধা হওয়াটাই এই রোগের লক্ষণ । ডাক্তার ,বিশেষজ্ঞরা এটাকে পড়ার অক্ষমতা বলে অভিহিত করেছেন । কিন্তু তাদের মতে dyslexia এর কারণে লেখা, শব্দ উচ্চারণ এমনকি কথা বলার উপরও প্রভাব পরার সম্ভাবনা রয়েছে ।
উদাহরণস্বরূপ বলতে গেলে স্বাভাবিক কাজ তারা অন্য উপায়ে করতে থাকে এবং পড়ার পরিবর্তে অডিও সাউন্ডের প্রয়োজন হয় ।
কোন শিশু এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না বরং এটি দীর্ঘ মেয়াদী সমস্যা । কিন্তু বাচ্চারা সুখী থাকে এবং সফল ও হয় । কারণ অনেক কার্যকরী শিক্ষা পদ্ধতি আছে এই রোগের যা সহজেই শিশুদের সাহায্য করে ।
56
 
7
 

চিকিৎসাঃ

  • থেরাপি প্রোগ্রামটি অবশ্যই হতে হবে পদ্ধতিগত , কাঠামোগত, স্পষ্ট ও বহুমুখী সংবেদনশীল ।
  • প্রতিটি পদক্ষেপে তাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে ।
  • তাদের প্রতি সব সময় ইতিবাচক মন্তব্য করতে হবে ।
  • স্কুলে তাদের জন্য আলাদা জায়গা করে দিতে হবে ।
  • আবেগময় বিষয়গুলোতে তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে ।

ডিসলেক্সিয়া সম্পর্কিত ভিডিও ক্লিপস লিঙ্কঃ


 

 

 

 

 

 
https://www.youtube.com/watch?v=EnZraSPZnf0
2324525

Dyspraxia:

এই রোগে আক্রান্ত যারা তাদের চলাফেরা , সমন্বয় , বিচারবুদ্ধি, স্মৃতি, জ্ঞান সম্বন্ধীয় দক্ষতার অভাব থাকে । ডিসপ্রাক্সিয়া শরীরের ইমিউন এবং স্নায়ুবিক গঠনেও বাধাগ্রস্থ করে ।
দৈনন্দিন সুক্ষ বিষয়গুলি যেমন জুতার ফিতাবাঁধা, জামা কাপড়ের বোতাম ও চেইন লাগানো, ছুরি চামচ ব্যবহার ও হাতের লেখা ইত্যাদি কাজে সমস্যা হয় । এছাড়াও খেলার মাঠে দৌড়ানো, বল ধরা ,লাথিমারাতে অপারগ এমনকি স্কুলে ড্রয়িং ক্লাসে কাঁচি , রঙ পেন্সিলের কাজেও সমস্যা সৃষ্টি হয় ।
8910

চিকিৎসাঃ

যদিও ডিসপ্রাক্সিয়া সম্পূর্ণভাবে নিরাময় যোগ্য নয় তবুও যতই প্রাথমিক স্টেজে এর চিকিৎসা করা হবে ততই এটি উন্নতির দিকে যাবে । কিছু থেরাপি উল্লেখযোগ্যঃ

  • শারীরবৃত্তীয় থেরাপি
  • বাকশক্তি থেরাপি
  • মটর ট্রেনিং থেরাপি
  • ইকুইন থেরাপি

1112

কিছু ভিডিও ক্লিপ্স লিঙ্কঃ


 

 

 

 

 

 

19202122

পরিনত বয়সেও সন্তানের কথা না বলা…

13
শিশুর আধো আধো বোল শুনতে কার না ভালো লাগে? একটা বয়সের পরে সন্তানের ভাঙা ভাঙা হাজারো কথায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠে পরিবারের সকলে। সাধারণত শিশুরা ছয় থেকে আট মাস বয়সের পর থেকেই ছোট ছোট শব্দ বলা শিখতে শুরু করে। বারো থেকে আঠারো মাসের মধ্যেই শিশুরা সাধারণত কথা বলা শিখে যায়। উচ্চারণ পরিষ্কার হতে শুরু করে তিন বছর বয়সের পর থেকে। কিন্তু অনেক শিশুই কথা বলার বয়স হলেও কথা বলে না।
শিশুর কথা না শেখা বা দেরিতে কথা বলার পেছনে থাকতে পারে বেশ কিছু কারণ। যেমন –
শিশু বংশগত কারণে দেরিতে কথা বলা শুরু করতে পারে।
মস্তিষ্কের জন্মগত ত্রুটি।
প্রসবকালীন জটিলতা।
প্রসবোত্তর স্বল্পকালীন অসুখ যেমন – ভীষণ জ্বর, খিঁচুনি, জীবাণু সংক্রমণ, মস্তিকের ভেতর জীবাণু সংক্রমণ ইত্যাদি শিশুর কথা বলার বাধা হতে পারে।
জিহ্বার ত্রুটির কারণে অনেক শিশু ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারে না।
শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। অনেক সময় দেখা যায় বড়রা শিশুদের সাথে ঠিকমতো কথা না বললে শিশুরা ভুল উচ্চারণ শিখে থাকে।
শিশুর মানসিক প্রতিবন্ধকতা থাকলে অর্থাৎ বুদ্ধির মাত্রা কম হলেও শিশু দেরিতে ভাষা শেখে।
শিশুর সামনে ঝগড়া বা উচ্চারণ বেশি মাত্রায় করলে তাদের কথা জড়িয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে।

করণীয় :

শিশুর কথা বলার বয়স হওয়া সত্ত্বেও মুখে বুলি না ফুটলে দ্রুত ডাক্তার দেখানো উচিত। আবার কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যা না থাকলেও অনেক শিশু দেরিতে কথা বলা শুরু করে বা বলেই না। সেক্ষেত্রে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে শিশু কথা বলাকে ত্বরান্বিত করা যেতে পারে। যেমন –
শিশুর সাথে কথা বলুন :
পরিবারের সদস্যরা শিশুর সাথে শুদ্ধ উচ্চারণে প্রচুর কথা বলুন। শিশুকে এমন প্রশ্ন করুন যার উত্তর সে ছোট ছোট শব্দ বা বাক্য অথবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে দিতে পারে। অনেকেই শিশুকে টিভি দেখতে বসিয়ে দেন। তা না করে তাকে গল্পের বই পড়ে শোনান।
গান বা ছড়া শোনান :
শিশুকে ছড়া বা গান শুনিয়ে ঘুম পাড়ান। গানের অর্থ না বুঝলেও গান ছুঁয়ে যায় শিশুর কোমল হৃদয়ও। শিশুকে গান শোনান বা ছন্দোবদ্ধ ছড়া-কবিতা শোনান। নিজে না পারলে মিউজিক সিস্টেমের সাহায্য নিন। আপাতদৃষ্টিতে এটা শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম মনে হলেও শিশুর কথা পরিষ্কারভাবে বলতে সাহায্য করবে।
শিশুর বেড়ে ওঠার পরিবেশ অনুকূল রাখুন :
শিশুকে সুস্থ্য ও স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে উঠতে দিন। শিশুর সামনে তর্ক বা ঝগড়া করবেন না। কোনো ব্যাপার দ্বিমত হলে তা শিশুর সামনে প্রকাশ করবেন না।
উচ্চারণ শুধরে দিন :
শিশুর ভুল উচ্চারণে ভাঙা ভাঙা কথা শুনতে ভালো লাগলেও তাতে উত্‍সাহ দেবেন না। শিশুর ভুল উচ্চারণ শুনে খুশি না হয়ে বরং তা তত্‍ক্ষণাত্‍ শুধরে দিন।
বাচ্চাকে সময় দিন :
শিশুর মা-বাবা যতটা সম্ভব শিশুর সাথে সুন্দর সময় কাটান। বাচ্চা যেন হীনমন্যতায় না ভোগে বা নিজেকে অসহায় না ভাবে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

Speech delay related some video clips:


 

 

শিশুর দেরিতে কথা বলা

14
বহু শিশু যথাসময়ে কথা বলতে শেখে না। অনেকেই ভাবেন, এরা বুঝি অটিজমে আক্রান্ত। ব্যাপারটি তেমন নাও হতে পারে। কথা দেরিতে বলার বহু কারণ আছে। যেসব শিশু কথা বলা শিখছে না বা দেরিতে বলছে বা ভালো করে বলতে পারছে না- তাদের অভিভাবকদের কিছু কাজ করার আছে। অনেকেই জানি না, স্পিচ থেরাপির সহায়তা নিলে শিশুটি দ্রুত কথা বলা শিখতে পারে। যথাসময়ে কথা বলা না শিখলে স্কুল থেকে শুরু করে সামাজিক কর্মকাণ্ডে শিশুটি অনগ্রসর হয়। যা তাকে সারা জীবন বহন করতে হয়।
যেসব শিশু দেরিতে কথা বলে বা ঠিকমতো কথা বলা শিখছে না তাদের ক্ষেত্রে প্রতিটি কাজে একটি নির্দিষ্ট শব্দের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কথা বলতে হবে। যেমন- শিশুকে গোসল করানোর সময় ‘গোসল’ শব্দটির ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। আবার বাইরে যাওয়ার সময় ‘যাব’ শব্দটি বারবার বলে শিশুকে বোঝাতে হবে।
শিশু যদি ইশারার সাহায্যে যোগাযোগ করতে চায়, তবে সেই ইশারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং অর্থবোধক শব্দ যোগ করে তাকে কথা বলতে উৎসাহিত করুন। যেমন- শিশু বিদায় জানাতে হাত বাড়ালে আপনি বলুন ‘বাই বাই’ অথবা ‘টা টা’।
শিশুর সবচেয়ে পছন্দের জিনিসটি একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় রেখে (শিশুর নাগালের বাইরে) তাকে জিনিসটি দেখান। যখন সে ওটা নিতে চাইবে বা আপনার হাত ধরে টানবে, তখন আপনি জিনিসটির নাম একটু স্পষ্টভাবে বলুন। যেমন- যদি ‘গাড়ি’ হয় তবে বলুন ‘ও, তুমি গাড়ি খেলতে চাও?’ অথবা ‘এই যে তোমার গাড়ি।’
শিশুর অনুকরণের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বেশি গুরুত্ব দিন। যেমন- শিশুর হাসি বা মুখভঙ্গির অনুকরণ করে দেখান। তারপর আপনার সঙ্গে শিশুকে অন্যান্য শারীরিক অঙ্গভঙ্গি যেমন- হাততালি দেওয়া, হাতের উল্টোপিঠে চুমু খাওয়া ইত্যাদি করান। পাশাপাশি উচ্চারণ স্থান দেখিয়ে বিভিন্ন শব্দ অনুকরণের ওপর গুরুত্ব দিন।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু মূল শব্দের আগে অনেক ক্ষেত্রে আগে প্রতীকী শব্দ ব্যবহার শুরু করে। তাই এ ক্ষেত্রে আপনিও প্রাথমিকভাবে প্রতীকী শব্দ ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দিন। যেমন- গাড়ি বোঝাতে পিপ্পিপ্। বেড়াল বোঝাতে মিঁউ মিঁউ ইত্যাদি।
যেসব শিশু মাঝেমধ্যে দু-একটি শব্দ বলছে, তাদের শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধির ওপর জোর দিন। যেমন- শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ (মাথা, হাত, পা), বিভিন্ন জিনিসের নাম (বল, গাড়ি, চিরুনি), বিভিন্ন ক্রিয়াবাচক শব্দ (খাব, যাব, ঘুম) ইত্যাদি শেখান।
দুই বছরের বড় শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত এবং অতি পছন্দের ৮-১০টি ছবি নিয়ে একটি বই তৈরি করুন। প্রতিদিন একটু একটু করে বই দেখিয়ে শিশুকে ছবির মাধ্যমে নাম শেখাতে পারেন।
যেসব শিশু চোখে চোখে তাকায় না এবং মনোযোগ কম, আবার কথাও বলছে না, তাদের ক্ষেত্রে আগে চোখে চোখে তাকানো ও মনোযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশলের ওপর গুরুত্ব দিন। যেমন- লুকোচুরি খেলা, কাতুকুতু দেওয়া, চোখে চোখে তাকিয়ে শিশুর পছন্দের ছড়াগান অঙ্গভঙ্গি করে গাওয়া।
আপনার কথা না বলা শিশুটির সামনে অন্য একটি শিশুর ‘দাও’ বলার পরে পছন্দের জিনিস দিচ্ছেন এমন কৌশল দেখিয়ে তাকে কথা বলার গুরুত্ব বোঝাতে পারেন।
যা করবেন না
কথা বলার জন্য অত্যধিক চাপ যেমন- ‘বল, বল’ ইত্যাদি করা যাবে না।
শিশুকে অপ্রাসঙ্গিক অথবা অতিরিক্ত প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকুন।
একসঙ্গে অনেক শব্দ শেখানোর চেষ্টা করবেন না, এতে শিশু কথা বলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি কিছুটা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাব্যবস্থা। সঠিক সময়ে এই পদ্ধতির কৌশলগত প্রয়োগ হলে শিশু কথা এবং যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমে উন্নতি করবেই।
অনেক মা-বাবাই ভাবেন, অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুর সঙ্গে তাঁদের পিছিয়ে পড়া শিশুর খেলার পরিবেশ করে দিলেই আপনা আপনিই কথা শিখে যাবে। কিন্তু মনে রাখবেন, এমনটা না-ও হতে পারে। তাই নিজেরা বাড়িতে চেষ্টা করুন, প্রয়োজনে স্পিচ থেরাপির সহায়তা নিন।
বিভাগীয় প্রধান, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি ইউনিট, আইএনডিআর, ঢাকা।
বাচ্চাদের স্পীচ ডিইলে অ্যালালিয়া বলেও পরিচিত যার অর্থ কথা বলতে যে কৌশলের প্রয়োজন সেই অগ্রগতি থেকে বাচ্চাদের পিছিয়ে থাকা । কিন্তু বাচ্চারা মাতৃভাষা বলতে দেরি করে না বরং অক্ষমতা থাকে বুদ্ধিদীপ্ত শব্দ উচ্চারণে ।

Speech Delay


 

 

 
https://www.youtube.com/watch?v=pCw3Jn7NW
 

262728293130

Reluctant to write


 

 
https://www.youtube.com/watch?v=s215H9UO_BA<[/embed]                 32333435