গ্রুপ স্টাডি কেন করবেন ?

সন্তানের জেনারেল নলেজ কিভাবে বাড়াবেন
April 5, 2017
ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি এইচএসসি ১ম বর্ষ থেকেই
April 9, 2017
Show all

গ্রুপ স্টাডি কেন করবেন ?

স্কুল কলেজে প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়েছেন, কোচিং করেছেন কিন্তু ভার্সিটি লাইফে আর সেই সুযোগ নেই। ক্লাস মিস করেছেন?সামনে পরীক্ষা?কোন লেকচার বা সাবজেক্ট কঠিন লাগছে?সমাধান আছে গ্রুপস্টাডিতে।গ্রুপস্টাডি বলতে কয়েকজন মিলে একসাথে পড়াশোনা করাকে বোঝায়। গ্রুপস্টাডির ফলে গোটা সেমিস্টারের নোট, শিট আর পুরো সিলেবাস নিয়ে খুব সহজেই আলোচনা করা যায়।ক্লাসে শিক্ষকের লেকচার টুকে নেওয়ার পরেও অনেক বিষয় নিয়ে কনফিউশন থাকে,দেখা যায় অনেকের মধ্যে একজন হয়ত বিষয়টি ভালো ভাবে বাকিদের বোঝাতে পারে আর তাই সবাই মিলে বসে পরে গ্রুপ স্টাডিতে। একসাথে অনেকে থাকে বলে একটি বিষয়ে নানা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়,ফলে কঠিন বিষয় ও সহজ হয়ে যায়।

গ্রুপ স্টাডি এখন এক পরিচিত নাম।ক্যাম্পাস চত্বরে প্রায়ই দেখা যায় শিক্ষার্থীদের জটলা। কারন গ্রুপ স্টাডিতে শুধু পড়াশোনা না,বন্ধুত্বও বাড়ে।গ্রুপ স্টাডিতে সিরিয়াস, ক্লাসে ফাঁকি দেওয়া, সব ধরণের শিক্ষার্থীরাই উপকৃত হয়। কারন যে জানে সে অন্যকে বোঝানোর মাধ্যমে নিজের জ্ঞানকে ঝালাই করে নিতে পারে আর বই পড়তে না চাওয়া শিক্ষার্থীও বন্ধুর কাছ থেকে কম সময়ে বিষয়টি জেনে ও বুঝে নিতে পারে সহজেই। এছাড়া একা একা পড়তে একঘেয়েমি লাগে অনেকেরই, বন্ধুদের সাথে পড়লে সেই একঘেয়েমি কাটানো যায়। এছাড়া কিভাবে পড়তে হবে, ক্লাস, পরীক্ষা, ক্যারিয়ার, সমসাময়িক নানা বিষয়েও জানা যায় এখান থেকে।অনেক সময় সিনিয়র কারও সাথে বসে ও কোন বিষয় বুঝে নেওয়া যায়।এছাড়াও ভার্চুয়াল মাধ্যম গুলোতে গ্রুপ খুলে নানা তথ্য শেয়ার করতে পারে, ফলে ক্লাস, পরীক্ষা, রুটিন, কোন আপডেট এক সাথে জানা যায়। এছাড়া কোন দরকারি ডকুমেন্ট বা ফাইলও প্রয়োজন মত ডাউনলোড করে পড়া যায়।

গ্রুপ স্টাডি নিয়ে কথা বলেন স্টেট ইউনিভার্সিটিঅব বাংলাদেশের আইন বিভাগের সিনিয়র লেকচারার নাজিয়া রহমান।তিনি বলেন, “একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে কয়েকজন যখন তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে পড়াশোনা করে সেটাই মূলত গ্রুপ স্টাডি। কয়েকজন মানুষ একত্রিত হলে তাদের মাথা থেকে বিভিন্ন রকমের আইডিয়া বের হয়।”

এছাড়াও সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পর্কে নাজিয়া রহমান বলেন, “যেহেতু এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির ধ্যান-ধারণা আলাদা হয়ে থাকে। অনেকে একত্রে বসলে, আলোচনার মাধ্যমে সেখান থেকে নতুন নতুন আইডিয়া বের হতে থাকে এবং সবাই মিলে একটা সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারে। তাছাড়া নিজেদের আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের ভুল ধরা পরে বলে অনেক সুবিধা হয়। অতি সহজেই বুঝতে পারে সবাই। এতে দুর্বল ছাত্রটিও দিন দিন ভালো ফল করতে পারে। তাই সবার গ্রুপ স্টাডিতে মনোনিবেশ করা উচিত।”

গ্রুপ ওয়ার্ক এর রয়েছে নানা সুবিধা। নানা মানসিকতার মানুষের সাথে খাপ খাওয়ানো শেখা যায় এখান থেকে যা পরবর্তিতে কর্মজীবন, ব্যাক্তিগত জীবনে নানা কাজে লাগে। একারনেই শিক্ষকেরাও অ্যসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন সহ নানা কাজ গ্রুপে দিয়ে থাকেন।

শুধু ছাত্রজীবনে নয়, চাকুরির নানা পরীক্ষার জন্যও গ্রুপ স্টাডি এখন বেশ জনপ্রিয়। রীতিমত ফেইসবুকের অনেক পেজ খোলা হয়েছে, যেখানে অ্যাড আছেন হাজার হাজার চাকুরি প্রার্থী।এখানে সবাই নানা ফাইল, তথ্য শেয়ার করে। চাকরির নানা নিয়োগ, তারিখ, ফলাফল এখান থেকে জানা যায়।এখানে একে অপরকে মোটিভেট করে,অনেক সময় চাকুরিরত ব্যাক্তিরাও নিজের জীবনের নানা ঘটনা শেয়ার করে,নানা টিপস,তথ্য দিয়ে আপডেট রাখে গ্রুপকে। ফেসবুকে এসব গ্রুপের কল্যাণে এখন নানা প্রান্তের মানুষ একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে হতে পেরেছেন।

শুধু লক্ষ্য রাখতে হবে শুধু গল্প নয়, বরং পড়াশোনা করাটাই এখানে মূল  উদ্দেশ্য।সময়ের মূল্য দিতে হবে। সবার মতামতের মূল্য দেওয়ার মানসিকতা থাকাটাও জরুরী সব গ্রুপ মেম্বারদের জন্য।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *