আসুন জানি সুন্দর পিচাই সম্পর্কে

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি এইচএসসি ১ম বর্ষ থেকেই
April 9, 2017
সংস্কৃতির বিকাশ ছোটবেলা থেকেই
April 13, 2017
Show all

আসুন জানি সুন্দর পিচাই সম্পর্কে

 

সুন্দর পিচাই। গুগল এর সি.ই.ও হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর , সব employee দের নিয়ে মজার এক টিম মিটিং করেছিলেন। বলেছিলেন মজার এক তেলাপকার গল্প। এক মহিলা কিভাবে হোটেলে খেতে গিয়ে তেলাপকা দেখে ভয় পান, এবং তার অঙ্গভঙ্গি কিভাবে বাকি সবাই কে ভয় পাইয়ে দেয়। এবং তেলাপকা উড়ে এসে waiter এর গায়ে পড়লে, waiter সেই problem এর reaction কিভাবে করেন, যেই গল্প ইন্টারনেট  থেকে পড়ে অনেকেই আজ বিভিন্ন জায়গায় বলে তারকা হয়। আসলে গুগল এর সি.ই.ও সুন্দর পিচাই যা বলেছিলেন সেটা হলে, আমাদের সমস্যা আমাদের বিরক্ত বা আঘাত কিছুই করে না, আমরা কিভাবে তাকে নেই বা ডিল করি, তা থেকেই আমাদের অভিব্যাক্তি হয়

 

সুন্দর পিচাই। শুধু গুগল এর সি.ই.ও নয়, তিনি silliocn valley এর সবচেয়ে বেশী উপার্জনকারী CEO এবং  silliocn valley এর সব কোম্পানিরা যার পিছনে ঘুরছে। এক সময় যিনি নিজের ভাই এর সাথে রুম শেয়ার করে ঘুমাতেন, ভারতের এক শহরের গরিব পরিবার এ জন্মে, পরিবার এত গরিব ছিল যে, একা একটি মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার কিনে দেয়ার মত সামর্থ্য ছিল না, কিন্তু আজ তিনি, গুগল এর সি.ই.ও, এবং শুধু তাই নয় আমেরিকার silicon valley এর সব টপ কোম্পানিরা তাকে চায় নিজের টিমে, তাকে বলা হয় এখন টেকনোলজি বিশ্বের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত দামি লোক, যার মুল্য ৬.৫ মিলিয়ন ডলার। কারন আজ আমরা google chrome নামের যেই browser টি দিয়ে browse করে সারা দুনিয়া জেনে নিচ্ছি ইন্টারনেট থেকে, সুন্দর পিচাই, সেই লোক যার brain child এই google chrome। বলা হয় তিনি google chrome এর সফলতার পিছনের mastermind.

ব্যর্থতা কে নিজের সম্মানের একটি অংশীদার হিসেবে গ্রহন করে নাও, stop excuses and make changes এ কথা বিশ্বাস করেন যিনি তার জীবনের সব দিক জানলে দেখা যাবে পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই। ৪৫ বছর বয়সী এই বিশ্ব কাঁপানো, প্রজুক্তিবিদ অসামান্য মেধার কারনে জীবনের প্রথম চান্স পান IIT Kharagpur টেকনোলজি ইন্সটিটিউটে। সেখান থেকে USA গিয়ে Stanford university তে PhD করেন। ক্যারিয়ার জীবনের শুরুর দিকে silicon valley তে semi-conductor engineer এবং প্রোডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করলেও, তা ছেড়ে দিয়ে MBA করেন। পরে ২০০৪ সালে google এ চাকরিতে ঢোকেন, যখন google সার্চ, মাইক্রোসফট internet explorer এবং bing সার্চ ইঞ্জিনের কারনে এক কঠিন সময় পার করছিল। তখন সব মানুষ ই ব্রাউজিং এর জন্য Microsoft এর internet explorer ব্যবহার করত। সুন্দর পিচাই একটি google toolbar মার্কেট এ নিয়ে আসেন। google toolbar নিয়ে কাজ করার সময়, তিনি মনে করেন google এর নিজের ব্রাউজিং ইঞ্জিন নিয়ে আসা উচিত। তখন google এর CEO এটিকে বিশাল ব্যয়সাপেক্ষ, কাজ দেখে তাতে সায় দেননি, কিন্তু সুন্দর পিচাই দমে না গিয়ে, google এর co-founder ল্যারি পেজ কে রাজি করান। ২০০৮ সালে google chrome যখন মার্কেট ছাড়া হয় তা ব্যাপক সাড়া পায়। google এর নিজস্ব এই ব্রাউজিং ইঞ্জিন google search engine এ কেও ব্যবহারকারীর সামনে নিয়ে আসে, এবং এই সাফল্যে সুন্দর পিচাই একজন প্রযুক্তি খাতে international figure হয়ে যান। google chrome তখন মার্কেটের অন্য সব ব্রাউজিং ইঞ্জিন Internet Explorer, Firefox কে পিছে ফেলে দেয়। আস্তে আস্তে chorme OS এবং মার্কেটে chorme cast চলে আসে। তার এই অসাধারন performance এবং সাফল্যে তিনি ক্যারিয়ার দিক থেকে এগিয়ে যেতে থাকেন google এ। একসময় তাকে google apps এবং অপারেটিং সিস্টেম android এর দায়িত্ব দেয়া হয়। android এর এক নতুন ভার্সন মার্কেট এ নিয়ে আসে তিনি আরও অনেক ব্যবহারকারী বাড়ান। এর পর তিনি google এর spokesperson হিসেবে কাজ করেন, যে কোন কনফারেন্স এ google এর ভবিষ্যৎ চিন্তা, প্রোডাক্ট এসব তুলে ধরার দায়িত্ব নেন। ড্রাইভার ছাড়া গারি চালানর যে স্বপ্ন আজ google দেখছে, তার অন্যতম পথিকৃৎ তিনি। এক সময় তিনি google এর অন্যতম বড় পোস্ট, হেড অফ প্রোডাক্ট হন, যা google এ ল্যারি পেজ এর পর সেকন্ড ইন কমান্ড ধরা হত। Microsoft এবং টুইটার এর মত কোম্পানি থেকে CEO হওয়ার অফার পেলেও, সুন্দর পিচাই gogole ছেড়ে যাননি, কারন বিশ্বাস করতেন অনেক কিছু করার আছে।

তিনি সারাক্ষন শুধু চিন্তা করেন, এরপর কি, এরপর কি আনতে হবে কম্পিউটার জগতে। তিনি google কে এতটা ভালবাসেন কেন, কারন তার মনে হয় google search বৈষম্য দূর করে। গ্রামে বসেও একজন মানুষ কম্পিউটার আর কানেকশন থাকলে google search থেকে তাই দেখবে, যা কেউ আমেরিকায় বসে দেখছে। মনে করেন, রিস্ক নিন, শিখবেন, আগাবেন। আর শেখার জন্য নিজেকে পুশ করতে থাকুন।

 

এই লেখাটির পিছনে একটা অন্যরকম উদ্দেশ্য ও ছিল। টেকনোলজি ওয়ার্ল্ড এ Apple এর CEO স্টিভ জবস, অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা। তার ভিশন, চিন্তা ভাবনা সব কিছু যেন আর সব কিছু ছেয়ে যায়। তিনি মারা গেলে, ক্ষুদে প্রজুক্তিবিদ অনেকের মন ভেঙ্গে গেলেও, এটা বলাটা উদ্দেশ্য যে legends are born in era to era. প্রতিভাবানরা জন্মায় যুগে, যুগে, আগেও ছিলে, আসবে এবং থাকবে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *