মার্ক জুকারবার্গ সম্বন্ধে আমরা জানবো

বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন
April 26, 2017
ছেলে আর মেয়েদের খেলনা
May 4, 2017
Show all

মার্ক জুকারবার্গ সম্বন্ধে আমরা জানবো

সারা দুনিয়াকে এক সুতোয় বেঁধেছে ফেসবুক। আজকাল ফেসবুকে নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই কঠিন। ভার্চুয়াল জগতে ফেসবুক এখন একক রাজত্ব। এই ফেসবুকের প্রতিষ্ঠা মার্ক জুকারবার্গ। পুরো নাম মার্ক এলিয়ট জুকারবার্গ, একজন আমেরিকান কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও  সফটওয়্যার ডেভেলপার। তিনি ১৯৮৪ সালের ১৪ই মে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি বিশ্বে বহুলভাবে পরিচিতদের মাঝে একটি অন্যতম নাম।

৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ সাল থেকে মার্ক জুকারবার্গ ফেসবুক নিয়ে কাজ শুরু করেন । এই ফেসবুকের যখন প্রথম শুরু হয়েছিল তখন শুধুমাত্র সীমাবদ্ধ ছিলো হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি কেন্দ্রীক। তখন হার্ভাডের ছাত্র-ছাত্রীরাই শুধু এটির ব্যবহার করতেন।  ২০০৫ সালের পর থেকে ফেসবুক সারা বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়  । প্রথমদিকে নাম ছিলো “দ্য ফটো এড্রেস বুক”। এটি ছিলো অনেকটা ‘স্টুডেন্টস ডাইরেক্টরি’র মতো।এতে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের নাম, ফোন নাম্বার, তাদের বন্ধুদের নাম, পাঠরত বিভাগের নাম ইত্যাদি লিখে রাখতে পারতেন।ছাত্র-ছাত্রীরা এর নাম রেখেছিলো ‘দ্য ফেসবুক’।এবং পরে ‘দ্য’ বাদ দিয়ে এর নাম হয়ে যায় “ফেসবুক”।

২০১০ সালে টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে তিনি বিশ্বের প্রভাবশালী এবং অর্থবিত্তসম্পন্ন ১০০ জনের মধ্যে নিজের স্থান করে নেন।

তিনি ২০১৩ সালের এপ্রিলে ফেসবুক কোম্পানীর চেয়ারপারসন এবং প্রধান কার্যনির্বাহী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সেপ্টেম্বর ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসাবমতে তার সম্পদের পরিমাণ এখন ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে বিশ্বে ফেসবুক ব্যবহারকারী ১.৮৬ বিলিয়ন এর উপরে। ইন্টারনেটের আর কোনো সামাজিক মাধ্যম এত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি।

ইয়াহু  ফেসবুক কিনতে চেয়েছিলো ১ বিলিয়ন ডলারে।  মার্ক জুকারবার্গ সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল ।

মার্ক জুকারবার্গ মাত্র ২৩ বছর বয়সে বিলিয়নিয়ার হন। যা ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে বিলিয়নিয়ার হওয়ার একটি রেকর্ড। বর্তমানে মার্ক জুকারবার্গ এর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।  তিনি পৃথিবীতে সবচেয়ে ধনীদের মধ্যে ৬ নম্বরে রয়েছেন।

মার্ক প্রতি বছর নতুন করে একটি বড় ‘চ্যালেঞ্জ’ নেন। এবং তা  শেষ করেন। ২০১৬ সালের চ্যালেঞ্জটি হল তিনি মোট ৩৬৫ মাইল (৩৬৫ দিনে) দৌড়াবেন। তবে ইতিমধ্যেই তিনি সেই চ্যালেঞ্জ টি শেষ করে ফেলেছেন।

মার্ক জুকারবার্গ ‘মান্দারিন’ ভাষা শিখেন ২০১০ সালে যাতে করে তিনি তার স্ত্রীর পরিবারের সাথে তাদের ভাষায় সাথে কথা বলতে পারেন।

মার্ক ও প্রিসিলা তাদের ফেসবুক এর শেয়ার এর ৯৯% ই দান করে যাবেন। যার মূল্য বর্তমানে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার।

আমরা ফেসবুকে অন্যান্য ওয়েবসাইট এর মত বিজ্ঞাপন দেখি না। কারণ, জাকারবার্গ মনে করেন বিজ্ঞাপন আসলে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য খুবই বিরক্তিকর। বিখ্যাত কোম্পানি ইয়াহু, MTV জুকারবার্গের কাছে বিজ্ঞাপন বিক্রি করতে আসেন, কিন্তু জুকারবার্গ তা গ্রহণ করেন নি।

জুকারবার্গ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করার আগেই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যান। তার এই সিদ্ধান্ত ছিল ফেসবুককে আরো সময় দেয়ার জন্য।

মার্ক জুকারবার্গ হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি তে পড়াকালীন তার হোস্টেল রুম থেকেই ফেসবুক লাঞ্চ করেন।

যখন জুকারবার্গ হাই স্কুলে পড়তেন, তখন তিনি একটি মোবাইল অ্যাপ বানান যা কিনা বিখ্যাত কোম্পানি মাইক্রোসফট, AOL এর চোখে পড়ে। তখন ওই কোম্পানি গুলো তার এপটি কিনে নিতে চায় এবং তাকে চাকুরির অফার ও দেয়। কিন্তু তিনি তার কোনটাই গ্রহণ করেন নি। এবং ওই এপটি তিনি ফ্রি তে ইন্টারনেট এ ছড়িয়ে দেন।

মার্ক এর বাবা-মা, তিনি স্কুলে পড়ার সময় তার জন্য বাসায় একজন কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ দেন। কিন্তু কিছুদিন পর ঐ শিক্ষক জানিয়ে দেন যে, তার পক্ষে মার্ক কে পড়ানো খুবই বিব্রতিকর, কারণ মার্ক মাঝে মাঝেই তার শিক্ষক কে ছাড়িয়ে যান।

মার্ক জুকারবার্গ খুবই ছোট বয়স থেকেই কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরি করা শুরু করেন। তিনি মাত্র ১২ বছর বয়সেই উনার বাবার ডেন্টাল অফিসের জন্য একটি প্রোগ্রাম তৈরি করেন। যার নাম দেন ‘Zucknet’।

মার্ক জুকারবার্গ সবসময় ছাই রঙের একটি টি-শার্ট পড়ে ফেসবুক কার্যালয়ে আসেন। তাকে এ বিষয়ে  জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তিনি চান না অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে মাথা ঘামিয়ে সময় নষ্ট করতে, যত সময় পান তার সবটাই তিনি ফেসবুক কমিউনিটি তথা পৃথিবীর সবার উন্নতির জন্য ব্যয় করতে চান। তাই তিনি সবসময় একই রঙের টি-শার্ট পরিধান করেন, যাতে কোনদিন কোন রঙের টি-শার্ট পরবেন তা নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট না হয়।

জুকারবার্গ তার বাড়িতে কোন TV রাখেন না, এবং ভবিষ্যতে রাখারও কোন ইচ্ছা নেই। কারণ,  তিনি সাধারণত কম্পিউটার এ কাজ করেই সময় কাটান।

 মার্ক জুকারবার্গ লাল-সবুজ বর্ণান্ধ। যার ফলে ফেসবুকের থিম ও নীল-সাদা রঙের। কারণ তিনি নীল রঙটি ভাল দেখতে পান।

তিনি বলেছেন, বিশ্বের প্রত্যেকজনকে যোগাযোগের মধ্যে বা পারষ্পরিক কাছাকাছি নিয়ে আসার একটি সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে এবং তার প্রয়োজনও অপরিসীম। সমাজকে ভবিষ্যতের জন্য রূপান্তর করতে এবং প্রত্যেকের কন্ঠ বা ভাব প্রকাশের সুযোগ উপস্থিত হয়েছে।

অর্থবিত্ত বানাতে নয়, ভালো সেবা প্রদানের মাধ্যমে অর্থ আয়ই লক্ষ্য। নিখুঁত কাজ প্রয়োজনীয়। কিন্তু জুকারবার্গ বলছেন- শতভাগ নিখঁত কাজের চেয়ে কাজটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই মুখ্য। ফেসবুক কোম্পানী তাদের অফিসের দেয়ালে টাঙিয়ে রেখেছে- Done is better than perfect এই বক্তব্যটি।

পাকাপাকিভাবে কোনো কাজ সমাপ্ত করা যাবে না। একটি কাজ শেষ করার পরে তার মধ্যে ভুল থাকবেই। বারবার চেষ্টা করে তার উন্নতিসাধন করতে হবে। কেউই ভুলের উর্ধ্বে নয়!

শুধু ব্যবসা করে মুনাফা অর্জন করা নয়, আমরা সবাই খেয়াল রাখি প্রতিদিনের কাজের মাধ্যমে আমরা কীভাবে সমাজব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনতে পারি, পৃথিবীকে কিছু দিতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *