ছেলে আর মেয়েদের বড় হয়ে ওঠার মধ্যে রয়েছে পার্থক্য

ছেলে আর মেয়েদের খেলনা
May 4, 2017
শিশুদের নিজস্বতা
May 10, 2017
Show all

ছেলে আর মেয়েদের বড় হয়ে ওঠার মধ্যে রয়েছে পার্থক্য

শিশুরদের বেড়ে উঠা থেকেই বোঝা যায় ছেলে ও মেয়ে শিশুদের পার্থক্য। তাদের মাঝে কি কি পরিবর্তন হবে ও হচ্ছে সেটাও বেড়ে ওঠার উপরই নির্ভর করে।

ছেলে ও মেয়ে শিশুদের বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে বেশ দৃশ্যমান কিছু পার্থক্য রয়েছে। ছেলে শিশুদের বেড়ে উঠার সাথে মেয়ে শিশুদের বেড়ে উঠার পার্থক্যগুলো অনেকেই জানেন না এবং এই অজ্ঞতার ফলে বাবা-মা অনেক সময় দুশ্চিন্তায় ভুগে থাকেন।

আসুন জেনে নেই ছেলে এবং মেয়ে শিশুদের  বেড়ে উঠার কিছু পার্থক্য সম্পর্কে –

 

১। লিঙ্গ পরিচিতি

ছেলে এবং মেয়ে শিশুরা সাধারণত ১৮ মাস বয়স থেকেই নিজেদের লিঙ্গ হিসেবে ভিন্ন করতে পারে। এছাড়া দুই থেকে ছয় বছর বয়সের মাঝে শিশুরা অন্যের লিঙ্গভেদ করতে পারে এবং সেই অনুযায়ী ছেলেরা ছেলেবন্ধু, এবং মেয়েরা মেয়েবন্ধুদের সাথে মেলামেশা করতে শেখে এবং পছন্দ করে।

বৈষম্য একজন মেয়ে শিশুর বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে কম নয়। মেয়ে শিশুর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব এবং বৈষম্য আমাদের সমাজে এখনো বিদ্যমান। এখনো অনেক পরিবার আছে হাঁড়ির মাছের টুকরোটা মেয়েকে না দিয়ে তুলে দেয় ছেলের ভাতের প্লেটে। কেননা ছেলেই তো কামাই রোজগার করে খাওয়াবে। এখনো আমাদের সমাজে ছেলে সন্তান জন্ম নিলে আনন্দের মহোৎসব হয়, যা মেয়ে সন্তানের বেলায় হয় না। বরং বংশ রক্ষার কারণে ছেলেরা নানাভাবে পুরস্কৃত হয়। আবার পর পর মেয়ে সন্তান জন্ম নিলে ছেলে সন্তানের আশায় পরিবারের সংখ্যা বেড়ে যায়। সংসারের অভাব অনটন হয় আরো প্রকট। কোন কোন সময় এমনও লক্ষ্য করা যায়, পরিবারে তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি করতে দেয়া হয় মেয়ে শিশুকেই। যেমন: বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে, মাঠ থেকে গরু নিয়ে আসার দায়িত্ব পড়ে মেয়ে শিশুর উপর। বৃষ্টির মধ্যে গরু আনতে গিয়ে কাল বৈশাখীর মুখোমুখি পড়ে।

২। শারীরিক বৃদ্ধি

একটা বয়স পর্যন্ত ছেলেমেয়েদের বৃদ্ধি একই রকম থাকলেও পাঁচ থেকে সাত বছর বয়সের পর মেয়ে শিশুরা খুব দ্রুত বেড়ে উঠে এবং বয়সন্ধিতে ছেলে শিশুদের বৃদ্ধি বেশি তরান্বিত হয়।

বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ঠ্যগুলো আমরা বড়রা অনেকে জানি, আবার অনেকে জানি না। যাঁরা জানি তারা বিষয়গুলো অনেকটা মানতে চাই না। যদি একটি মেয়ে শিশুকে দেখি তার সমবয়েসী এক কিশোরের সাথে গল্প বা আড্ডা দিচ্ছে। তখনই আমরা বড়রা ছুড়ে দেই সন্দেহের তীর। ওটা করা যাবে না. . . কিংবা বাচ্ছা মানুষ কি বুঝবি ? ইত্যাদি ইত্যাদি মন্তব্য করে তার কোমল আবেগকে অসম্মান করি অবজ্ঞার সাথে। কখনো কিশোরী মনকে বোঝার চেষ্টা করি না। আসলে সে কি চায়?

৩। শারীরিক ভাষা

বিভিন্ন রকম শারীরিক দক্ষতা যেমন দৌড়ানো, লাফানো, ব্যালেন্স করা এসব দক্ষতা ছেলেরা আগে দেখা যেখানে মেয়ে শিশুরা পেন্সিল ধরা, লেখা, রঙ করা এসবে ছেলে শিশুদের  চেয়ে এগিয়ে থাকে। এবং এসবের পরিপ্রেক্ষিতেই ছেলে শিশুরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়ে শিশুদের চেয়ে বেশি একটিভ থাকে।

৪। কথা বলা

বেশিরভাগ ছেলে শিশুরাই মেয়ে শিশুদের চেয়ে দেরীতে কথা বলতে শেখে।মেয়ে শিশুরা বেশি শব্দ শুনতে ও বুঝতে পারে যেখানে বেশিরভাগ ছেলে শিশুরা নতুন শব্দ শুনতে বা বুঝতে  খুব একটা আগ্রহী নয়।

অজ্ঞতা আর অজ্ঞানতা একটি মেয়ে শিশুর বেড়ে উঠার অন্যতম অন্তরায়। এই কিশোরী বয়সের মধ্যেই বয়ঃসন্ধিকাল। সাধারণত: এই সময়েই একজন কিশোর-কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ও পরিবর্ধন ঘটে। এই সময়ে একজন কিশোর বা কিশোরী সাধারণত: স্বপ্ন বা কল্পনা বিলাসী হয়, প্রচণ্ড আবেগ প্রবন হয়, একা থাকতে পছন্দ করে, হঠাৎ হঠাৎ মেজাজী হয়, বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়, এই সময়ে তাদের আত্মসম্মান বোধ পরিপক্ব হয়, সব সময় হাসি আনন্দে থাকতে চায়, সমবয়েসী বন্ধুদের সাথে মিশতে ভালবাসে, সর্বপরি এই সময়ে সে নিজেকে অন্যের কাছে প্রকাশ করতে চায়।

 

৫। টয়লেট ট্রেনিং

মেয়ে শিশুরা এক্ষেত্রেও বেশ এগিয়ে থাকে। প্রাকৃতিক ভাবেই মেয়ে শিশুরা সামাজিক ব্যাপারগুলো এবং এসব ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে আগেই বুঝে থাকে। এবং তাদের জন্য এসব ব্যাপারগুলো বোঝা সহজ হয়।

৬। খেলনা নির্বাচন

ছেলে বেলা থেকেই শিশুদের খেলনা নির্বাচনে আমরা বুঝিয়ে দেই ছেলে ও মেয়ের পার্থক্য । ছেলেদের জন্য আমরা ফুটবল , কার, ক্রিকেট , ঊড়োজাহাজ ইত্যাদি নির্বাচন করি । ঠিক একই ভাবে আমরা মেয়ে শিশুদের জন্য পুতুল , হাঁড়িকুঁড়ি খেলনা নির্বাচন করি এবং এ নিয়ে খেলতে খেলতে মেয়ে শিশুদের আমরা বুঝিয়ে দেই যে তারা সংসার , রান্নাঘর , বাচ্চা লালন পালন ইত্যাদি নিয়ে জীবন কাটাতে হবে । ছেলেরা বড় হয়ে জাহাজ বানাবে, পাইলট হবে , গাড়ি চড়বে ইত্যাদি কত কি !

সমাজের বেঁধে দেওয়া এই নিয়ম নীতি শিশুদের বুঝতে শেখাই কে ছেলে আর কে মেয়ে ।

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *