চাকরি দাতা যা চান একজন চাকরি প্রার্থীর কাছে ।

শিশুদের নিজস্বতা
May 10, 2017
মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ভর্তির প্রয়োজনীয় তথ্য
May 29, 2017
Show all

চাকরি দাতা যা চান একজন চাকরি প্রার্থীর কাছে ।

ঢাকার একজন উদ্যোক্তার ফেইসবুক পেজ থেকে নেওয়া একটি পোস্ট ছিল এইরকম

‘‘বিজয় / অভ্রতে বাংলা লিখতে পারে ! এমন এডমিন এসিসট্যান্ট পাওয়া যায় না। ফেসবুক পেইজ ম্যানেজ করতে গিয়ে গুছিয়ে একটা মেসেজের রিপ্লাই দিতে পারে, বেসিক ওয়ার্ড, এক্সেল ব্যবহার করতে পারে ! এইটুকু দক্ষ ছেলে মেয়ে পাওয়া যায় না। ফোন রিসিভ করে সঠিক কার্টেসি মেইন্টেইন করে কথা বলতে পারে ! এমন লোকেরও অভাব। প্রোডাক্ট ডেলিভারী দিতে গিয়ে কাস্টোমারের সাথে সুন্দর করে কথা বলে তাকে কনভিন্স করতে পারে ! এমন লোকও খুব একটা দেখিনি। প্রোডাক্ট প্রমোশনের জন্যে প্রফেশনাল এপ্রোচের বিপিও পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।

অথচ, চারিদিকে তাকালে বেকারের অভাব নেই। কাজ চাই, কাজ নাই ! রবে সবাই সরগরম। এই প্রজন্ম নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নে বিন্দুমাত্র সচেতন নয়।’’

বিরাট একটা গ্যাপ। এইরকম অভিযোগ এখন অনেক চাকরি দাতার কাছ থেকেই পাওয়া যায় ।   কিন্তু চাকুরী প্রত্যাশী এবং চাকুরীদাতা উভয়ের মধ্যে একটু যোগসূত্র স্থাপন করা গেলে, সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজের সার্বিক উন্নতি সাধনের  লক্ষ্যে  কাঙ্খিত দক্ষতা প্রদান কিংবা অর্জনে কিছুটা বাড়তি এফোর্ড দিলেই কিন্তু অনেকটা ঝামেলা মিটে যায়।

এই পোস্টটি যারা জব খুঁজছেন তাদের জন্য

 

এই  ২০১৭ সালে একটা ভালো  চাকরি প্রার্থীর  মধ্যে নতুন কিছু কি কি  খুঁজছে কোম্পানিগুলো, খুব সংক্ষেপে আমি  এখানে কাভার করব।

 

১) মাইক্রোসফট ওয়ার্ড , এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট এর পাশাপাশি কোম্পানিগুলো খুঁজছে আপনি বাংলায় বা ইংলিশ এ সোশ্যাল মিডিয়া তে একটা পোস্টটি লিখতে পারেন কিনা। সোশ্যাল প্লাটফর্ম এক এক তা যে এক এক রকম সেই সম্পর্কে আপনার ধারণা কতটা স্বচ্ছ , এ কারণে অনেক সময় সি ভি ঘাটার আগে, ক্যান্ডিডেট এর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল দেখা হয়। সোশ্যাল মিডিয়া তে ট্রেন্ড কি চলছে তাই দিয়ে আজকাল প্রেজেনটেশন শুরু করা হয় সামাজিক যোগাযোগে দক্ষতা আর জনপ্রিয়তা অন্যতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।বর্তমানে সোশাল মিডিয়ার দক্ষতা একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠানেই সামাজিক যোগাযোগে দক্ষ ও জনপ্রিয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, বক্তব্য গবেষকেদের।নিউজিল্যান্ডের হেইজ রিক্রুটমেন্টের পরিচালক জ্যাসন ওয়াকার এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বর্তমানে চাকরি দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে চাকরিপ্রার্থীর দক্ষতা ও কার্যকলাপ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

 

২) স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় এখন ফটো, ভিডিও এডিটিং যতটা পারেন শিখে নিন. স্লাইডশো বানানো, ব্যতিক্রমী ট্যাগ লাইনে, ক্লিকিং ওয়ার্ড, এগুলা কোনো নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্ট এর কাজ নয়, আপনাকেই নিজের প্রেজেন্টেশন এ এগুলো দিয়ে চমকে দিতে হবে।

৩) বেসিক ডিগ্রি পড়াশুনার পাশাপাশি, অনলাইনে কোর্স করুন, বিদেশী প্লাটফর্মে অনেক ফ্রি কোর্স পাবেন, যেটাকে আমরা অপ্রয়োজনীয় মনে করি, কিন্তু, এটা আপনার সি ভি কে ভারী করবে. দেখবেন, যার কাছে ভাইভা দিচ্ছেন, তিনি এরকম কিছু করেননি, আপনার কাছেই জানতে চাচ্ছেন কিভাবে করা যায়।

৪) চাকরির অভিজ্ঞতা, এই নিয়ে অনেক বাক বিতন্ডা থাকলেও, কিছু অভিজ্ঞতা থাকা ভালো, আর এখন কিন্তু আগের থেকে, ছাত্র অবস্থায় অনেক কাজের সুযোগ আছে, ফ্রিল্যান্সিং এর অভিজ্ঞতা অনেক কাজে লাগবে।

৫) শেষটা পুরনো হলেও, খুবই গুরুত্বপূর্ণ. প্রতিনিয়ত এর চর্চা করুন।  অনেক শিক্ষামূলক ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি, ভিডিও দেখে এবং এখন প্রোফাইল এ লেখালেখি অনেক কাজে আসবে।

 

পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই। সাফল্যের কোন শর্টকাট নেই এবং দক্ষতা ছাড়া যোগ্যতার কোন দাম নেই। এগুলোই দিন শেষে চিরন্তন সত্য বচন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *