শ্রেনিকক্ষ ও শিক্ষার্থী নিয়ন্ত্রণ

উপস্থাপনার ১০ টি বিষয় যা আপনার জানা উচিত
July 13, 2017
ভর্তি যুদ্ধে টিকে থাকতে কি করবেন এইচ এস সি তে উত্তীর্ন শিক্ষার্থীরা?
July 24, 2017
Show all

শ্রেনিকক্ষ ও শিক্ষার্থী নিয়ন্ত্রণ

শিক্ষককে বলা হয় সর্বশ্রেষ্ঠ পাঠ্য উপকরণ।শ্রেণীকক্ষ যেখানে রাজ্য, শিক্ষকই সেখানকার সম্রাট। একটি নির্দিষ্ট সময়ে তিনি কীভাবে শ্রেণীকক্ষ ব্যবস্থাপনা করে সর্বাধিক সুফল নিশ্চিত করবেন, এটি শিক্ষকের কৌশলের উপর নির্ভর করে। পাঠদান অথবা বিষয়ভিত্তিক বক্তৃতার শিল্পকে শিক্ষকগণ এখানে চর্চা করতে পারেন। এখানে আছে নির্লোভ নির্মোহ শিক্ষার্থীরা, যারা তার পাঠদান শিল্পের বিচারক, মূল্যায়ক এবং ভোক্তা তো বটেই।

শিক্ষার্থীদের নির্ভরতার আশ্রয় হোন

শিক্ষার্থীর মনে আশা জাগিয়ে তুলুন। কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মনে অনেক হতাশা আর ভয় থাকে। যদি তারা গণিতের শিক্ষার্থী হয়, বলুন গণিতের দফারফা হবে এবার। আর কোন ভয় নেই, কারণ আপনি আছেন তাদের সঙ্গে।

শিশুরা যা দেখে তা ই শেখে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে ভাল ব্যবহার করলে, শিক্ষার্থীরাও শিক্ষককে মান্য করবে।প্রাথমিকভাবে কিভাবে শিক্ষার্থীদের ম্যানেজ করতে হবে বুঝতে না পারলে, ক্লাসে  দুইটি গ্রুপ করুন। এতে করে আপনি বুঝতে পারবেন কিভাবে পুরো ক্লাসকে  কন্ট্রোল  করতে হবে।

আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা
আপনার শিশু কোন উপায়ে শিক্ষা গ্রহণে সবচেয়ে আনন্দ পায় তা জেনে নিন। অনেক শিশুই শিক্ষার পাশাপাশি গান, নাচ, অঙ্গভঙ্গি, অভিনয়, আঙুল গননা কিংবা ভিন্ন কোনো উপায়ে খুব ভালো শিখতে পারে। তাই আপনার শিশুর জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি কোনটি তা জানুন ও শিক্ষায় কাজে লাগান।

কি , কখন, কিভাবে পড়াবেন তার ছক তৈরি করুন

আপনি কি চান, আশানুরুপ ফলাফল  পেতে চাইলে কি কি করতে হবে, তার একটি তালিকা তৈরি করে ফেলতে পারেন।শিক্ষার্থিদেরকেও জানান, আজকের ক্লাসে আপনি কতটুকু করতে চান, কিভাবে পড়া শেষ করতে চান।

পরামর্শ নিন

ভালো ম্যানেজমেন্ট স্কিল আছে এরকম কারো কাছ থেকে পরামর্শ নিন, তাদেরকে ভালভাবে পর্যবেক্ষন করুন।

প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আপনার মনযোগটুকু (teacher’s attention) দিন। প্রত্যেককে। কেউ যেন বাদ না যায়। এটিই শিক্ষকের প্রধান কাজ, যা বইয়ে নেই কিন্তু আপনি দিতে পারেন। দুর্বলকে শক্তি দিন, লাজুককে সুযোগ দিন। তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলুন। শিক্ষার্থিদের কথা শুনুন, তাদের মতামত আর ইচ্ছাকেও প্রাধান্য দিন। মূলত শিক্ষকের কাজই হল শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা।

>স্পষ্ট ভাষায় এবং উচ্চস্বরে কথা বলুন।

স্পষ্টস্বরে প্রতিটি শব্দ নিক্ষেপ করুন। এটি পবিত্র শ্রেণীকক্ষ, জ্ঞানগৃহ। অধিকাংশ বিষয়ে আপনিই প্রথম তাদেরকে ধারণা দিচ্ছেন।ভালো বক্তা হোন, তাহলে শিক্ষার্থীরাও আপনার fan হয়ে উঠবে।

শিক্ষার্থীদের বয়সানুপাতিক আচরণগুলো বুঝার চেষ্টা করুন।

শিক্ষার্থীরা মাঝেমাঝে খুশগল্পে মেতে ওঠতে পারে/ নিজেদের মধ্যে হুসহাস আলোচনায় ডুবে যেতেই পারে। আপনি যা করবেন, তা হলো প্রথমতো মেনে নেওয়া। তারপর একটি পদ্ধতি বের করুন, যার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আবার ক্লাসে ফিরে আসতে পারে: হাততালি/ ওয়ান-টু-থ্রি ইত্যাদি।

 

 

উৎসাহ ও প্রশংসা

ভাল কাজের প্রশংসা করুন, পুরস্কৃত করুন। উৎসাহ ও প্রশংসার পেলে শিশু পড়ুয়াদের পড়াশোনায় আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই সর্বদা তাদের উৎসাহ দিতে ভুলবেন না। সামান্য উন্নতিতেই প্রশংসা করুন।

ছাড় দিন

পড়াশোনার জন্য যখন শিশু ব্যস্ত তখন অন্যান্য বিষয়গুলোতে ছাড় দিন। পরীক্ষা সারাবছর থাকবে না, এ বিষয়টি নিজে মানুন এবং তাকেও জানিয়ে দিন।

অগ্রগতি খেয়াল রাখুন

শিশুর পড়াশোনায় অগ্রগতি সব সময় খেয়াল রাখতে হবে। কোনো সময় সে অমনোযোগিতা বা অন্য কোনো কারণে পিছিয়ে গেলে পরবর্তীতে তা পূরণ করা কঠিন হবে।শ্রেনিকক্ষের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পড়ার বিষয় টাঙ্গানো, ডিনার টেবিলে অংকের সূত্র লাগিয়ে দেওয়া ইত্যাদি তাকে পড়াশোনায় এগিয়ে নিতে পারবে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *