আপনার শিশু হবে আত্মবিশ্বাসী

গণিত অলিম্পিয়াড নিয়ে কিছু কথা
November 15, 2017
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা
November 19, 2017
Show all

আপনার শিশু হবে আত্মবিশ্বাসী

আমিও পারি-ছোট অথচ প্রচণ্ড শক্তিশালী এ বোধটুকু ধীরে ধীরে শিশুর মনে সঞ্চারিত করার কেন্দ্রীয় চরিত্র বাবা-মা। কিন্তু পুরো প্রক্রিয়াটি দক্ষতার সঙ্গে সঠিকভাবে সম্পাদন করতে না পারলে অবশ্যই যথাযথ ফল পাওয়া সম্ভব নয়। সে জন্য শুরুতেই আপনার দরকার হবে যথাযথ আগ্রহ, সুচিন্তিত পরিকল্পনা, অকৃত্রিম আন্তরিকতা, সুস্থিত ধৈর্য ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা।

এবার না হয় দ্বিতীয়, দেখো আগামী পরীক্ষায় আমি নিশ্চয়ই প্রথম হব। গত দুই ম্যাচে ভালো করতে পারিনি ঠিকই কিন্তু পরের ম্যাচে আশা করি আমি ভালোভাবেই ফিরে আসব। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে যদি আগেই নার্ভাস হয়ে পড়ি, তাহলে তো আমার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ারই যোগ্যতা হয়নি। ঠিক এ ধরনের কথাগুলোই যদি আপনার কোমলমতি সন্তানরা বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে দৃঢ়ভাবে উচ্চারণ করে, তখন আপনার অনুভুতি কেমন হবে? সন্তানের এ আত্মবিশ্বাস আপনাকে যতটা আনন্দিত করবে? লাখ টাকাও নিশ্চয়ই সেই শান্তি, সেই তৃপ্তি আপনাকে কখনোই এনে দিতে পারবে না। আসুন জেনে নিই কিভাবে শিশুকাল থেকেই আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলবেন আপনার শিশুকে।

ফ্যান্টাসির জগৎ থেকে বেরিয়ে বাস্তবতার শিক্ষা দিনঃ

আপনি নিজেই প্রতিনিয়ত কতটা পরিশ্রম-সংগ্রাম করছেন কর্মক্ষেত্রে তো অবশ্যই, এমনকি নিজের বাসায়ও। এগুলো শিশুকে বুঝিয়ে বলুন। তাদের বলুন, আপনার দুঃসময়ে কীভাবে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেছেন ও সফল হওয়ার জন্য কীভাবে পরিশ্রম করেছেন। তাকে জানান, কীভাবে আপনি আপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হতে পারছেন। আপনার এ বর্তমান অবস্থানের পেছনে অন্যতম কারণ যে আপনার অটল আত্মবিশ্বাস, তা-ও আপনার সন্তানকে বোঝান। শিশুরা বুঝতে পারবে জীবন যাপনে কতটা হিসেবী আর পরিশ্রমী হত হয় ।
শিশুকে নিজের  আবেগ নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা দিন :
বাচ্চা কি হুট করে রেগে যাচ্ছে?সব সময় জেদ ধরছে? অথবা নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে?  আবার আশেপাশের মানুষের ব্যবহার মাঝে মাঝে শিশুর অবচেতন মনকে কষ্ট দেয়। সে সবার মাঝেও নিজেকে নিরাপদ মনে করে না। এই ধরণের আচরণ নিয়ন্ত্রন করতে শেখান শিশুকে। শিশুর সঙ্গে পরিবারে বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পরিবারের সবার সঙ্গে শিশু যত মিশতে পারবে, তার মাঝের জড়তা তত দ্রুত কেটে যাবে। সন্তানের সাথে নিজেদের সুখ দুঃখের কথা শেয়ার করুন, নিজেদের আর্থিক, সামাজিক অবস্থাটা বোঝান, এতে করে ছোটবেলা থেকেই শিশু বাস্তবতা শিখতে পারবে আর পরিবারের প্রতি ও শ্রদ্ধা বোধ তৈরি হবে আর অন্যায় আবদার করা থেকে বিরত থাকবে।

ধৈর্য ধরতে উৎসাহিত করুন
সন্তান যদি নতুন কিছু করার চেষ্টা করে তাহলে তাকে সুষ্ঠুভাবে বলে দিন, কাজটি কীভাবে করা যেতে পারে। একবারে না পারলে অস্থির না হয়ে কাজটি তাকে আবার করতে বলুন, না হলে আবার। প্রয়োজনে আপনিও সহযোগিতা করুন। এতে হয়তো আপনার খানিকটা সময় ব্যয় হবে কিন্তু আপনার সন্তান যে নতুন কিছু শিখছে এটা অনেক বড় অর্জন নয় কি? যেমন আপনার শিশু নিজেই তার ময়লা জামাটি ধোয়ার চেষ্টা করছে। তখন তাকে না বকে বরং তাকে জানিয়ে দিন বা বুঝিয়ে দিন যে, ওই জামাটি ধুতে কতটুকু সাবান আর পানি লাগতে পারে।

আদেশ দিন কিন্তু সেটি যেন বন্ধুসুলভ হয় আর শিশু ইতিবাচক ভাবে নেয়ঃ

আপনার কণ্ঠ যতটুকু সম্ভব শান্ত, কোমল ও বন্ধুসুলভ রাখুন এবং বক্তব্য ইতিবাচক করুন। যেমন স্কুলে গিয়ে খবরদার মারামারি করবে না-এভাবে না বলে বলুন, আমি চাই তুমি স্কুলের সময়টা পুরোটাই উপভোগ করো। আমার মনে হয় যাদের তুমি পছন্দ করো, কেবল তাদের সঙ্গে খেললেই তোমার ভালো লাগবে। সব সময় তাদের সঙ্গেই থাকবে। এ বাক্যটি অধিকতর ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ নয় কি? আবার,  বাচ্চারা তার খেলনা নষ্ট করবে এটাই স্বাভাবিক। এজন্য তাকে বকাঝকা না করে বোঝানোর চেষ্টা করুন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি তার ভিতরে খেলনাগুলোর যত্ন নেওয়ার বোধ সৃষ্টি করা যায়। খেলার পর খেলনাগুলো আমি বা কাজের লোককে দিয়ে গুছিয়ে তাকে দিয়েই খেলার ছলে গুছিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।প্রথমদিকে হয়তো কাজ হবে না । কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আপনার শিশুটি দেখবেন দায়িত্ববান হয়ে উঠেছে।

শিশুর ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে কথা বলুন :
শিশুর দক্ষতা আর ক্ষমতা নিয়ে তাকে উদ্বুদ্ধ করুন। তাকে তার কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত করুন। তার ছোট ছোট সফলতার ধাপগুলোতে তাকে উৎসাহী করে তুলুন।যথাযথ মূল্যায়ন পেলে সন্তান নিঃসন্দেহে উন্নতির পথে আরো এগিয়ে যায়। অন্যদের মতো তোমার প্রেজেন্টেশন অসাধারণ ছিল, এভাবে না বলে মূল বিষয় নিয়েই বলুন। যেমন তোমার নাচের মুদ্রাগুলো জটিল ছিল ঠিকই কিন্তু তুমি সম্পূর্ণটাই চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছো, সত্যিই অতুলনীয়। এতে শিশু সত্যিকারে কতটুকু করেছে সে ব্যাপারে যেমন ধারণা পাবে, তেমনি তার উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাস নিঃসন্দেহে বেড়ে যাবে বহুগুণ। আপনার শিশুর মতামতকে তার সামনে তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করে এমনভাবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলুন যেন সে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। এতে তার আত্মশ্রদ্ধা বাড়বে।

ভালোবাসা প্রদর্শন করুন
সন্তানকে প্রতিদিনই শর্তহীনভাবে ভালোবাসুন। তাদের কোমলভাবে বুকে জড়িয়ে নিন। উৎসাহ দিতে তাদের পিঠে আলতো করে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিন। তার স্কুলব্যাগ কিংবা লাঞ্চ প্যাকে বড় করে আই লাভ ইউ স্টিকার লাগিয়ে দিন। ঘুম পাড়ানোর সময় তাদের মাথায় কোমলভাবে হাত বুলিয়ে দিন, কপালে চুমু দিন। এ ধরনের ভালোবাসা সন্তানদের খুবই প্রয়োজন। মনে মনে তারা তাদের বাবা-মার কাছ থেকে এমনটি সত্যিকারেই প্রত্যাশা করে।
সন্তানের সাফল্য সেলিব্রেট করুন
সন্তানের শিক্ষা, খেলাধুলাসংক্রান্ত কিংবা সাংস্কৃতিক গুণাবলির বহিঃপ্রকাশস্বরূপ যে কোনো অর্জন, যে কোনো সাফল্য সেলিব্রেট করুন। তার পছন্দের খাবারটি সেদিন  স্পেশালভাবে রান্না করে দিন। পুরস্কার হিসেবে তাকে তার পছন্দের জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যান, কিংবা তার খুব পছন্দের কোনো জিনিস গিফট করে তাকে সারপ্রাইজ দিন। তার পুরস্কারগুলো, যেমন মেডাল, সার্টিফিকেট বা অন্য যে কোনো কিছু দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখুন বা ড্রইংরুমের শোকেসে সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখুন। এমনকি শিশু শুনতে পায় এমন দূরত্বে আপনার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিতজনের কাছে তার প্রশংসা করুন।
অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা করবেন না :
প্রত্যক শিশুর মাঝে আলাদা আলাদা প্রতিভা সুপ্ত অবস্থায় থাকে, যা পরিবার বা সমবয়সী বন্ধুদের সাথে খেলার ছলে প্রকাশ পায়। যে কোনো শিশুই একটি নির্দিষ্ট কাজে পারদর্শী হয়ে থাকে। যখন তাকে সেই কাজের জন্য উদ্বুদ্ধ না করে বরং সবার সামনে হেয় করা হয় তখনি শিশুটি নিজের মাঝে নিজেকে লুকিয়ে ফেলে।

দাম্পত্য কলহের বাইরে রাখুন

স্বামী স্ত্রী এর মধ্যে দাম্পত্যে কলহ হতেই পারে, তবে লক্ষ্য রাখবেন আপনার শিশুটি যেন এর বলি না হয়। তার বাবা-মা এর মধ্যকার সম্পর্ক সে যেন সব সময় উপলব্ধি করে মধুর,যা তার ভবিষ্যৎ ব্যক্তিগত জীবনে সুখের ছায়া ফেলবে।

শিশুকে পড়াশোনা ও স্কুলকে উপভোগ করতে দিন 

১/আপনার শিশুর স্কুলের প্রথম বছরটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে যদি আপনার শিশুকে তাঁর নিজের জু্তার ফিতে বাঁধা শিখিয়ে দিতে পারেন তাহলে তাঁর যে মানুষিক দৃঢ়তা তৈরি হবে তা হয়তো আমি বা আমরা কেউই কল্পনাও করতে পারব না। একবার ভাবতে পারেন স্কুলে কখনো তার জুতার ফিতে খুলে গেলে সে যদি আর দশটা শিশুর সামনে নিজে নিজেই তার ফিতে বাঁধতে পারে তাহলে তার নিজের উপর আত্মবিশ্বাস কোথায় গিয়ে ঠেকবে।

২/স্কুলের পড়ার ব্যাগ আপনি নিজ না গুছিয়ে আপনার শিশুকে করতে দিন। আপনি শুধু খেয়াল রাখুন সে ঠিক ঠাক বই খাতা নিচ্ছে কি না।এতে ছোটবেলা থেকেই মানসিকভাবে গোছানো হয়ে গড়ে উঠবে।

৩/ক্লাসে ফার্স্ট বা সেকেন্ড হলো কি না সেটা আসলে শিশুর জন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার না,তাই সে ক্লাসে কি পারলো আর কি পারল না সেটা নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন না হয়ে সে তার স্কুল্টা উপভোগ করছে কিনা সে দিকে নজর দেওয়া তার শারীরিক এবং মানসিক উভয়ের জন্যই ভাল।

৮/সপ্তাহে অন্তত একদিন এবং ছুটির দিনগুলোতে আপনার শিশুকে একটু প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যান। তাকে ছেড়ে দিন খোলা হাওয়ায়,স্পর্শ করান মাটিকে।ধরতে দিন ফুলের উপর বসা রঙ্গিন প্রজাপ্রতীটীকে। দৌড় দিতে দিন,দিতে দিন ঝাঁপ।দেখবেন প্রকৃতির সান্নিধ্য আপনার শিশুর মাঝে এক অপূর্ব ভালো লাগার স্নিগ্ধতার ছাপ ফেলে যাবে যা আমি বাজার বা লক্ষ টাকা খরচ করেনাও কোন সুপার সপে পাবেন না ।

৯/মোটামুকি পড়তে এবং লিখতে পারলে তাকে তার ব্যক্তিগত ডায়েরি লেখার বা আঁকার ব্যাপারে উৎসাহিত করুন।এতে সে নিজেকে নিয়ে ভাবতে শিখবে,অনুভব করতে শিখবে। নিজের কাছে আত্মসমালোচনার দ্বার হবে উন্মুক্ত।

১০/পাঠ্যপুস্তকের বাইরে মজার মজার বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।এতে সে পুরো পৃথিবী নতুন করে চিনতে শিখবে। সারাদিন অফিস, ব্যবসা বা সংসার নিয়ে ব্যস্ত? ঠিক আছে, তাহলে রাতে সন্তানদের ঘুম পাড়ানোর সময় তাদের মহৎ ব্যক্তিদের গল্প শোনান। কেননা জীবনীর প্রতি শিশুদের স্বভাব-দুর্বলতা আছে। বিশেষ করে যেসব সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তি তাদের মেধা, শ্রম, নিষ্ঠা, ধৈর্য, অধ্যবসায় ও কাজের দ্বারা এ পৃথিবীতে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন, তাদের জীবনী শিশুরা বেশি পছন্দ করে। সত্যি বলতে এ জাতীয় গল্পে সাফল্য আসে আন্তরিক চেষ্টা, কঠোর পরিশ্রম, অবিচল ধৈর্য, প্রতিজ্ঞা ও দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে। আমিও পারি-জাতীয় ইন্সপায়ারিং মেসেজ এমনিই মিশে থাকে। এ ধরনের গল্প শুনলে বাচ্চারা সহজেই আত্মবিশ্বাসী হতে শেখে। যেমন তাকে জীবন্ত কিংবদন্তি ম্যারাডোনার কথাই বলুন না। শৈশবে বস্তিতে নিষ্ঠুর দারিদ্র্যের মাঝেও ছেঁড়া কাপড় দিয়ে ফুটবল খেলে তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ফুটবলারদের অন্যতম।

 

অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী বাবা-মা হোন

শিশুরা মূলত আত্মবিশ্বাসী নয় বরং তারা নিষিক্রয় ও পরনির্ভর। তাদের প্রয়োজন বাইরের উৎসাহ, সমর্থন ও অনুমোদন। প্রকৃতপক্ষে তার ভেতরের স্বভাব-কৌতূহল, উচ্ছ্বাস ও সৃষ্টিশীলতা তার আত্মবিশ্বাস বিকাশের জন্য যথেষ্ট নয়।
নিউইয়র্কের ফ্যামিলি থেরাপিস্ট সুসান পি হেভেন বলেন, একজন আত্মবিশ্বাসী শিশু গড়ে তোলার জন্য সর্বোত্তম পন্থা হলো নিজেদের আত্মবিশ্বাসী বাবা-মা হওয়া। আত্মবিশ্বাসী বাবা-মা হিসেবে কি করবেন কি করবেন না জেনে নিন।

সন্তানকে ভুল করতে দিন কিন্তু নিষ্ক্রিয় করে রাখবেন না
শিশুকে বিষয়গতভাবে সংশোধন করুন। বুঝলেন না? ধরুন তার স্কুলের হোমওয়ার্কটা বিশৃঙ্খল হয়েছে বা তার হাতের লেখাটা সুন্দর হয়নি। তাকে বলুন, তোমার হোমওয়ার্কটা বিশৃঙ্খল হলেও তুমি কিন্তু সুশৃঙ্খল, তোমার হাতের লেখাটা সুন্দর না হলেও তুমি কিন্তু খুব সুন্দর। তাই ভুলটা তোমার মধ্যে নয়, ভুলটা এ পৃষ্ঠায়। আশা করি তুমি যেমন সুন্দর আর সুশৃঙ্খল, তোমার হোমওয়ার্ক আর হাতের লেখাও তেমন সুশৃঙ্খল আর সুন্দর হবে। বিষয়টি অনেকটা ব্যক্তিকে দোষী না বলে তার দোষকে সংশোধন করে দেয়ার মতোই।

নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবেন না বরং  সিদ্ধান্ত নিতে সন্তানকে
সহযোগিতা করুন
শিশুকে তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পছন্দ করতে দিন। এটা তার জন্য সহজ হবে যদি তাকে কেবল দুটি জিনিস থেকে একটি পছন্দ করতে দেয়া হয়। হতে পারে সে দুটি জিনিস আপনি আপনার সন্তানের জন্য সাপোর্ট করেন বা তাদের জন্য মঙ্গলজনক মনে করেন। এতে বিষয়টি এমন হলো যে, শিশু নিজেই পছন্দ করে নিল ও আপনার প্রত্যাশিত জিনিসই তাকে দিতে পারলেন। কিংবা তাকে একটি জামার দোকানে নিয়ে যান। জামা পছন্দ করতে বলুন। তাকে জিজ্ঞাসা করুন সে কেন অন্যগুলো বাদ দিয়ে ওই জামাটি পছন্দ করল। তারপর তাকে উৎসাহিত করতে বলুন, তোমার চয়েস সত্যিই চমৎকার ও ভবিষ্যতে তুমি আরো ভালো পছন্দ করতে পারবে।

সন্তানকে চোখের মনি করে রাখবেন না বরং তাকে পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে শেখানঃ

পৃথিবী একদিকে আর আপনার সন্তান একদিকে এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। সন্তানের অন্যায় আবদার আর আচরণ মেনে নেবেন না। সন্তানকে আপনার উপর খবরদারী করার কোন সুযোগই দেবেন না।

অনেকেই আছেন নিজে কস্ট করে হলেও সন্তানের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন, সন্তানের সব ঝামেলা নিজেই মেটাচ্ছেন। এতে করে আদতে কিন্তু আপনি আপনার বাচ্চার ক্ষতিই করছেন কেবল, কারন আপনার শিশুকে এক সময় এইগুলো মোকাবেলা করতেই হবে, তো আগে থেকেই তাকে প্রস্তুত করে নেয়াই বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সন্তানকে হার মানতে শিখতে দিতে হবে, তাহলেই সে সফল হবার রাস্তা খুঁজতে আবার ঘুরে দাড়াতে শিখবে।

এড়িয়ে যাবেন না

 সময় বাঁচাতে , ঝামেলা এড়াতে সন্তানের অবাধ্যতা, বিশৃঙ্খল আচরনকে পাশ কাটিয়ে যাবেন না। বরং তাকে শৃঙ্খলা শেখান, দায়িত্ব পরায়ণ করে তুলুন। এগুলকে শাস্তি হিসেবে যেন না নেয় বরং জীবনযাপনের অংশ হিসেবে মেনে নিতে পারে সে শিক্ষা দিন। তাকে মূল্যবোধের চর্চা করান।

আপনারা শিশুকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে আপনার চেয়ে আর কোনও বড় প্রতিষ্ঠান এ জগতে নেই। আসুন দেখি নিচের ছোট ছোট কাজগুলো কি আসলেই খুব কঠিন হবে আপনার সন্তানের জন্য করার।

আপনার শিশু আপনার অস্তিত্ব,আপনার সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আপনার এই অংশটি যেন আগামী দিনে নিজের, সমাজের, পরিবারের, রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়ার মত মানসিক এবং শারীরিক দিক থেকে সামর্থ্য থাকে সেটার দায়িত্ব একান্ত আপনার।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *