আসুন জানি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের (www) আবিষ্কারক টিম বার্নার্স-লি সম্পর্কে

বাচ্চাদের গল্পের বই পড়ানোর অভ্যাস কিভাবে করানো যেতে পারে
November 23, 2017
সাড়া জাগানো অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো
December 7, 2017
Show all

আসুন জানি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের (www) আবিষ্কারক টিম বার্নার্স-লি সম্পর্কে

 

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা www এর সাথে বিশেষ পরিচিত। যেকোনো ওয়েবসাইটের শুরুতেই   www লেখা লাগে। কি এই www? এটি হচ্ছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। বহুল ব্যবহৃত এই তিনটি অক্ষরের জনক হচ্ছেন টিম বার্নার্স লি। তিনি একজন ব্রিটিশ কম্পিউটার বিজ্ঞানী। লি ১৯৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুল পাশ করার পর ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড এর দি কুইনস কলেজে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণীতে ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর তিনি একটি টেলিকমিউনিকেশন  কোম্পানিতে কাজ করেন।

টিম বার্নার্স-লি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চে (সার্ন)-এ ১৯৮০ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। এরপর তিনি সেখান থেকে জন পুলি’স ইমেজ কম্পিউটার সিস্টেম কোম্পানিতে যোগ দেন। ১৯৮৪ সালে তিনি পুনরায় সার্ন এ যোগদান করেন। ১৯৮৯ সালের মার্চে টিম বার্নাস লি পূর্ববর্তী হাইপারটেক্সট সিস্টেম থেকে ধারণা নিয়ে যে প্রস্তাবনা লেখেন তা থেকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের যাত্রা শুরু।      পরবর্তীতে এই কাজে লি’র সাথে যোগ দেন বেলজিয়ান বিজ্ঞানী রবার্ট কাইলিয়াউ। এসময় তারা উভয়েই সার্ন এ কর্মরত ছিলেন। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রস্তাবনায় তারা উল্লেখ  করেন,“ হাইপারটেক্সট-কে লিংক ও ওয়েব হতে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে একজন ব্যবহারকারী তার প্রয়োজন মতো ওয়েব পরিভ্রমণ করতে পারবে।” সেই থেকে শুরু  করে টিম বার্নার্স লি ওয়েবের উন্নতি সাধনে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি মার্কআপ ল্যাংগুয়েজ তৈরিতেও ভূমিকা রাখেন যার মাধ্যমে ওয়েবপেজ কম্পোজ করা হয়। তিনি সেমান্টিক ওয়েব তৈরিতেও ভূমিকা রাখছেন।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুক্ত হাইপারটেক্সট ডকুমেন্টগুলো নিয়ে কাজ করার প্রক্রিয়া ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW বা W3) নামে   পরিচিত। হাইপারলিংকের সাহায্যে ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী টেক্সট, চিত্র, ভিডিও ও অন্যান্য মাল্টিমিডিয়া  সমৃদ্ধ ওয়েব পেইজ দেখতে পারে। সাধারনত ব্রাউজারে  ইউআরএল টাইপ করে বা কোন পাতা থেকে হাইপারলিঙ্ক অনুসরণ করে ওয়েব পেজে ঢোকার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর ওয়েব ব্রাউজার কিছু বার্তা প্রদান করা শুরু করে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে। এরপরই ওয়েব পেজটি প্রদর্শিত হয়।

এক নজরে টিম বার্নার্স লির স্বীকৃতি

  • ১৯৯৪ সালে তিনি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব হল অফ ফেম- এর ছয়জন সদস্যের মধ্যে একজন ছিলেন।
  • ১৯৯৫ সালে তিনি অ্যাসোসিয়েশন অফ কম্পিউটিং মেশিনারি (এসিএম) এর কাছ থেকে সফটওয়্যার সিস্টেম অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।
  • ১৯৯৭ সালে তিনি গ্লোবাল কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এ অবদান রাখার জন্য তাকে কুইনস বার্থডে অনার প্রদান করা হয়।
  • ১৯৯৮ সালে ইউনিভার্সিটি অফ এসেক্স তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করে।
  • ২০০০ সালে ‘দি ওপেন ইউনিভার্সিটি’ তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করে।
  • ২০০১ সালে তিনি আমেরিকান একাডেমি অফ আর্টস এন্ড সায়েন্সেস এর একজন সহকর্মী হিসেবে নিযুক্ত হন।
  • ২০০২ সালে বিবিসি’র এক জরিপে ‘ 100 Greatest Britons’ এর মধ্যে একজন নির্বাচিত হন।
  • ২০০৩ সালে কম্পিউটার হিস্টোরি মিউজিয়ামের পক্ষ থেকে অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।
  • ২০০৪ সালে তিনি ল্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট অফ সায়েন্স ডিগ্রী গ্রহণ করেন।
  • ২০০৭ সালে তিনি বিশ্বখ্যাত পত্রিকা ‘দি টেলিগ্রাফ’ এর ‘100 greatest living geniuses’ এর মধ্যে যৌথভাবে প্রথম স্থান দখল করেন।
  • ২০১১ সালে তিনি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট অফ সায়েন্স ডিগ্রী অর্জন করেন।

স্যার টিম বার্নার্সলি ও ওয়েবের ২৭ বছর

স্যার টিম বার্নার্স-লি  যিনি পুরো পৃথিবীকে এক সুতোয় গাথার স্বপ্ন দেখেছিলেন । আর স্বপ্ন দেখেছিলেন বলেই  ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট চালু করেন স্যার টিম বার্নার্স-লি। সে হিসাবে  ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের ২৭ বছর পূর্ণ হলো। তার প্রথম ওয়েব সাইটটি  লেখা ও কিছু হাইপার লিংকের সমন্বয়ে সাদামাটা একটা ওয়েবসাইট ছিল ।
বার্নার্স-লির সেদিনের সেই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব একবিংশ শতাব্দীতে এসে মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। মানুষ যেন দরকারি তথ্য ও নথি সহজে খুঁজে পায়, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবে এমন এক ব্যবস্থা বানাতে চেয়েছিলেন তিনি। প্রথম ওয়েবসাইটেই তাঁর সেই পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

টিম বার্নার্স-লি এর অপর নাম স্যার টিমোথি জন “টিম” জন বার্নার্স-লি এবং TimBL নামেও তিনি পরিচিত, তিনি একজন ব্রিটিশ পদার্থবিদ, কম্পিউটার বিজ্ঞানী, MIT (Massachusetts Institute of Technology) এর একজন অধ্যাপক। তিনি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) এর জনক এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কনসোর্টিইয়ামের   পরিচালক।  সেইসাথে তিনি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি তাঁর শিক্ষাজীবন বেশ সফলতার সাথে শেষ করার পর  সার্ন (European Organization for Nuclear Research ) এ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন এবং এখানেই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর উদ্ভাবন করেন। স্যার টিম বার্নার্স লি তাঁর সমগ্র কর্মজীবনে বেশ কয়েকটি সন্মাননায় ভূষিত হন। এর মাঝে ২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং ২০১১ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট অব সায়েন্স এ ভুষিত হন। এছাড়াও তিনি অনেক  সন্মাননায় ভূষিত হন ।

কম্পিউটার বিজ্ঞানের নোবেল পুরষ্কার হিসেবে খ্যাত টুরিং পুরষ্কারে ভূষিত স্যার টিম বার্নার্স লী

সম্প্রতি স্যার টিম বার্নাস লী কম্পিউটার বিজ্ঞানের নোবেল পুরষ্কার হিসেবে খ্যাত টুরিং পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। এই বছর ছিল টুরিং পুরষ্কারের ৫০ বছর পূর্তি। গত ৪ মে, বৃহস্পতিবার এ্যাসোশিয়েন অফ কম্পিউটিং মেসিনারিজ (ACM) ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (www), প্রথম ওয়েব ব্রাওজার এবং ওয়েবকে মানসম্মত করার জন্য যে মৌলিক নিয়মনীতি ইত্যাদি তৈরির জন্য প্রফেসর স্যার টিম বার্নাস লী-কে টুরিং পুরষ্কারে ভূষিত করেন

টুরিং পুরষ্কার কমিটি লী এর এই আবিষ্কারকে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী কম্পিউটিং উদ্ভাবন হিসেবে বিবেচিত করেছে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব প্রতিদিন এক বিলিয়নের বেশি মানুষ যোগাযোগ, তথ্যের আদান-প্রদান, ব্যবসায়িক কাজের জন্য ব্যবহার করে থাকে।

১ মিলিয়ন ইউএস ডলার এসিএম টুরিং অ্যাওয়ার্ডের পুরষ্কার হিসেবে দেয়া হয়, যার আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে গুগল ইনকর্পোরেট। ব্রিটিশ গণিতবিদ অ্যালান টুরিং এর নামানুসারে এই পুরষ্কার দেয়া হয়ে থাকে। কম্পিউটার বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই পুরষ্কার দেয়া হয়ে থাকে। গত মার্চে (২০১৭) দ্য গার্ডিয়ানকে ওয়েব নিয়ে তিনি তিনটি শঙ্কার কথা জানান। তিনি বলেন—(১) ওয়েবের কারণে ব্যক্তিগত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছি। (২) খুব দ্রুত ভুল তথ্য বা খবর ছড়িয়ে পড়ছে। (৩) পলিটিকাল বিজ্ঞাপন প্রভাবিত করছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *