কম্পিউটার সাইন্স এবং ক্যারিয়ার !!

সাড়া জাগানো অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো
December 7, 2017
English Medium Schooling in Bangladesh
December 7, 2017
Show all

কম্পিউটার সাইন্স এবং ক্যারিয়ার !!

বর্তমান যুগ এবং কম্পিউটার সাইন্স

বর্তমান যুগের খুবই কমন একটি সাবজেক্ট হলো কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। যুগের চাহিদাই হোক কিংবা সবার সাথে তাল মিলানোর জন্যই হোক এই সাবজেক্টে পড়ছে বা পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। অনেকেই হয়ত ফ্রেন্ড অথবা বড় ভাই কারো কাছ থেকে শুনে কিছু না ভেবেই ভর্তি হয়ে যায় এবং কিছুদিন যাওয়ার পর কোর্সগুলোর সাথে তাল মিলাতে না পেরে প্রচন্ড রকম অনিশ্চয়তা এবং হতাশায় ভুগতে থাকে।

আগে থেকে জেনে রাখা ভালো

যারা কম্পিউটার সাইন্সে পড়তে আগ্রহী তাদের কিছু বিষয় সম্পর্কে আগে থেকে জেনে রাখা ভালো। প্রথমত, এই সাবজেক্টে পড়তে হলে কি কি বিষয় সম্পর্কে দক্ষতা থাকা ভালো এবং ক্যারিয়ার হিসেবে কোথায় কোথায় এর স্কোপ রয়েছে।

আজকের লিখাটি প্রাইভেট ভার্সিটির ছয় মাসের সেমিস্টার ভিত্তিক গ্রাজুয়েশনের জন্য। সরকারী এবং কিছু প্রাইভেট ভার্সিটি বছরে দুইটি সেমিস্টার ভিত্তিক হয়ে থাকে। যারফলে এক সেমিস্টারে একজন শিখার্থী কে কম করে হলেও ২০ ক্রেডিট এবং চার বছরে কমবেশী ১৬০ ক্রেডিটের মত কমপ্লিট করতে হয়। তো ভর্তি হওয়ার আগে মাথায় রাখতে হবে কি পরিমাণ প্রেসার থাকতে পারে এবং সে হিসেবে মানসিক প্রস্তুতি।

যেসব কোর্স না করলেই নয়

কম্পিউটার সাইন্সে পড়ার প্রথম শর্ত হলো লজিক অনেক বেশী স্পষ্ট হতে হবে। প্রধানত ডিপার্ট্মেন্টাল কিছু সাবজেক্ট যেমনঃ C, C++, JAVA, Data Structure, Discrete Math, Algorithm, Database, Software Engineering, Pattern, Artificial Intelligent, Digital System and Logic Design, Microprocessor, Networking, Graphics কমবেশি সব ভার্সিটিতেই পড়ানো হয়ে থাকে।

 

তাছাড়া কম্পিউটার সাইন্সে পড়তে হলে কিছু নন ডিপার্ট্মেন্টাল সাবজেক্ট যেমনঃ Accounting, Economics, Management, Maths এবং ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কিছু কোর্স করতে হয়। প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এবং ডিপার্ট্মেন্টাল সাবজেক্ট গুলোর জন্য থিওরিটিকাল কোর্সের পাশাপাশি রয়েছে ল্যাব। ল্যাবে প্রাকটিকাল সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হয়। বেসিক কোর্স যেমনঃ C, C++, JAVA, Data Structure এগুলো প্রথম ২ বছরেই করানো হয়। ৩য় এবং ৪র্থ বর্ষে কোন ল্যাঙ্গুয়েজ শিখানো হয় না। আগের ল্যাঙ্গুয়েজ ইমপ্লিমেন্ট করে বিভিন্ন প্রজেক্ট ডেভেলোপ করতে হয়। মোটামুটি প্রত্যেক কোর্সের পরেই ল্যাব প্রজেক্ট দেয় হয় এবং এই প্রজেক্ট গুলোই পরবর্তীতে প্রফেশনাল লাইফে কাজ করতে অনেক বেশী সহয়তা করে।

 

স্পষ্ট লজিক এবং প্রোগ্রামিং

আপনি মানেন বা না মানেন আমরা বাস করছি ডিজিটাল যুগে। এই যুগে কম্পিউটার সাইন্সের প্রয়োজন অনেক বেশী। বর্তমানে ব্যবসা থেকে শুরু করে যেকোন গবেষণা সবক্ষেত্রেই প্রয়োজন রয়েছে কম্পিউটার সাইন্সের। প্রোগ্রামিং করে সল্ভ করা হচ্ছে বিশ্বের অনেক বড় বড় প্রবলেম। যেহেতু আপনি কম্পিউটার সাইন্স পড়তে চাচ্ছেন মনে রাখবেন ঠিকভাবে এগুলে এবং কোন কোন দিকে মনোযোগী হলে এই বিষয়ে পারদর্শী হতে পারবেন। তো আপনার যদি মনে হয়ে থাকে লজিক, ম্যাথ এবং অজানা কোন প্রবলেম সলবিং এর ক্ষমতা এবং প্রেসার নেয়ার মত মানসিকতা থাকে তাহলে কম্পিউটার সাইন্স আপনার জন্য। কারণ, একজন দক্ষ প্রোগ্রামার বা ডেভেলোপার হওয়ার জন্য আপনার যে জিনিষটা থাকতে হবে তা হচ্ছে অজানা যেকোনো প্রবলেম বুঝা এবং সলভ করার ক্ষমতা এবং অপরিসীম ধৈর্য্য।

এবার কথা বলা যাক চাকরি বা ক্যারিয়ার নিয়ে। পার্ট টাইম বা ফুম টাইম দুই ক্ষেত্রেই কম্পিউটার সাইন্সের চাকরির অনেক স্কোপ রয়েছে। প্রথমত, আপনাকে সিউর হতে হবে আপনি কম্পিউটার সাইন্সের কোন দিক নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান। কম্পিউটার সাইন্স কোন ছোট বিষয় নয়, এর পরিধি ব্যাপক। প্রোগ্রামিং ছাড়াও এর  নানা দিক রয়েছে যেমনঃ নেটওয়ার্কিং, ডাটাবেজ, ওয়েব ডিজাইনিং, হার্ডওয়্যার, রিসার্চ আরো অনেক কিছু। আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স, প্যার্টান, নিউরাল  নেটওয়ার্ক, ডিপ লার্নিং বর্তমানে এগুলো নিয়ে অনেক কাজ হচ্ছে । আপনি ক্যারিয়ার হিসেবে এখান থেকেও বেছে নিতে পারেন পচ্ছন্দের বিষয়টি। তো যেটাই বেছে নিন না কেনো আগে ভেবে দেখবেন বিষয়টা আপনার ভালো লাগছে কিনা। জোর করে বা অন্য কারো দেখাদেখি যদি কোনদিকে এগিয়ে থাকেন তাহলে মনে রাখবেন এক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

ক্যারিয়ার হিসেবে কি নিবেন তা অবশ্যই আপনার সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। যদি আপনি মনে করেন ওয়েব ডিজাইনিং নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে তার আগে জেনে নিন এর জন্য কি কি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ জানা উচিত, কোন ফ্রেমওয়ার্কে কাজ হয়ে থাকে, বর্তমানে এর কোন দিকের ডিমান্ড বেশি। এরপর আপনি নিজে প্রাকটিস শুরু করে দিন এবং লেগে থাকুন। দেখুন আগে আপনার বিষয়টি আসোলেই ভালো লাগছে কিনা। যদি আপনার মনে হয় আপনি পারবেন এবং আপনার প্যাশন এটি তাহলেই ক্যারিয়ার হিসেবে এইদিকে আগাবেন। অন্যথায়, শুধু শুধুই হতাশা বেড়েই যাবে। কম্পিউটার সাইন্সের একটি বড় সুবিধা হলো আপনি এর যেকোন বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রী ছাড়াও নিজ থকে শিখতে এমনকি দক্ষও হয়ে উঠতে পারেন সম্পূর্ন নিজ  উদ্যোগে এবং আপনি এর মাধ্যমে ঘরে বসেই টাকা উপার্জন করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং এর অন্যতম একটি উদাহরণ। এছাড়া ওয়েব ডিজাইনিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং ইত্যাদির মাধ্যমে ঘরে বসেই ভালো উপার্জন করা সম্ভব।

ভবিষ্যত বিশ্ব হবে সম্পূর্ণই প্রযক্তি নির্ভর, তো আপনি আপনার ক্যারিয়ার হিসেবে যদি কম্পিউটার সাইন্স বেছে নেন তা অবশ্যই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু মাথায় রাখবেন আপনি এর জন্য কতটুক মেধা এবং শ্রম দিতে রাজি। ঠিকমতো লেগে থাকলে আপনি অবশ্যই সফল হবেন আশা করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *