সাড়া জাগানো অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো

আসুন জানি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের (www) আবিষ্কারক টিম বার্নার্স-লি সম্পর্কে
December 6, 2017
কম্পিউটার সাইন্স এবং ক্যারিয়ার !!
December 7, 2017
Show all

সাড়া জাগানো অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো

বিংশ শতাব্দীতে হলিউড সিনেমাজগত এ তার অভিনয়প্রতিভা ও অসাধারন সৌন্দর্য দিয়ে পৃথিবীর লাখো মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়া অভিনেত্রীর নাম মেরিলিন মনরো । তিনি একজন বিশ্ববিখ্যাত আমেরিকান চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, মডেল এবং পপ আইকন। আর সকল পরিচয় ছাপিয়ে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তিনি তার সময়ের সবচেয়ে আবেদনময়ী অভিনেত্রী, যার পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে অসংখ্য ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। মনরো তার লাস্যময়ী কণ্ঠ, হাসি আর অভিনয় দিয়ে জয় করে গেছেন লাখো দর্শকের হৃদয়।

 

জন্ম ও শৈশব : 

বিখ্যাত এই অভিনেত্রী জন্মগ্রহণ করেন জুন ১ জুন ১৯২৬ লস এঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়াতে ।      

তার আসল নাম ছিল নরমা জেন মর্টেনশন। পালক পিতা-মাতা আলবার্ট ও ইদা এর আশ্রয়ে বড় হয়ে ওঠেন মনরো।

এরপরে তাঁর মা তাঁকে ফিরিয়ে নিতে চাইলেও  তিনি মানসিক সমস্যায় ভোগায় মেরিলিন বিভিন্ন অনাথাশ্রমে আশ্রয় নেন।

সংগ্রামী একটি শৈশব তাঁকে স্বভাবগত ভাবে তাঁকে ভীরু ও চাঁপা স্বভাবের করে তুলেছিল।

 

প্রাথমিক জীবন ও বিবাহ :

১৯৪২ সালের ১৯ জুন তার ১৬তম জন্মদিনের কয়েকদিন পরে তিনি তার প্রতিবেশীর পুত্র এয়ার ক্রাফট প্লান্টের

একজন চাকরিজীবি জেমস “জিম” ডগার্থিকে বিয়ে করেন। মনরো স্কুল থেকে  ড্রপ  আউট হয়ে যান  এবং গৃহিণী  হয়ে

যান।  পরে তিনি এই প্রসঙ্গে বলেন, “বিয়ের ফলে অখুশিও হয়নি আবার সুখীও হয় নি। আমার স্বামী এবং আমি খুব কমই  একে

অপরের সাথে কথা বলতাম। এটা আমরা একে অপরের উপর রাগান্বিত ছিলাম সে জন্য নয়। আমাদের কথা বলার কিছু ছিল না।

ফলে আমি অস্বস্তিতে ছিলাম।”

অভিনয় জীবন :

মনেরোর অভিনয় জীবন শুরু হয় মডেলিং দিয়ে ১৯৪৬ সালে।  এখানেই মনরো বাদামি বা ব্রাউনিস কালার চুল কে প্লাটিনাম হোয়াইটের এক আভা আনেন

যা তার ট্রেডমার্ক বলা চলে। আর তার নামের পরিবর্তে নতুন নাম হয় মেরিলিন মনরো। নাট্যশিক্ষা গ্রহণ করার পর তিনি ১৯৪৭ সালে টুয়েন্টিয়েথ

সেঞ্চুরি ফক্স স্টুডিওর সাথে চুক্তি বদ্ধ হন মনরো এবং দুটি মুভিতে তাকে প্রথমবারের মত দেখা যায়। ১৯৪৯ সালে মনেরো আবার মডেলিংয়ে ফিরে আসেন।

১৯৫৪  সালে তিনি বেসবল তারকা জো ডি মাগিও এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মেরিলিন তাঁর খ্যাতিঅর্জন করার পরে সাধারণ কিছু চরিত্র করেই বসে থাকতে

চাননি, তাঁর সিনেমার চরিত্রের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত সচেতন হন এবং অভিনেত্রী হিসেবে অধিক টাকা দাবি করার অপরাধে তাকে 20th century fox সাময়িক

ভাবে বরখাস্ত করলেও পরবর্তীতে তার প্রতিভার গুনে তারাই আবার মেরিলিনকে নিতে সম্মত হয় । ১৯৫০ সালে অল অ্যাবাউট ইভ  নামে চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয়

করেন। ১৯৫৭ সালে মুক্তি পায় বিখ্যাত ছবি দ্য সেভেন ইয়ার ইচ এছাড়াও  হাউ টু মেরি আ মিলিয়নিয়ারদ্য প্রিন্স অ্যান্ড দ্য শোগার্ল প্রভৃতি ছবিতে অভিনয় করে

তিনি  বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করেন। সাম লাইক ইট হট   ছবিতে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতধর্মী বা কমেডি অভিনেত্রী হিসেবে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার লাভ করেন।

এক নজরে মেরিলিন মনরো এর স্বীকৃতি ও অর্জন :

  • ১৯৫১ সালে মেরিলিন বক্স অফিস পারসোনালিটির শ্রেষ্ঠ তরুণ হিসেবে নির্বাচিত হন
  • সবচেয়ে কর্মঠ এবং অঙ্গীকারবদ্ধ তারকা হবার কারন এ ১৯৫২ সাল থেকেই তাঁর তারকা খ্যাতি বাড়তে থাকে ।
  • ১৯৫৩ সালে তিনি “প্লেবয়” ম্যাগাজিনের মডেল হন ।
  • ১৯৫৬ সালে তিনি BAFTA এর জন্নে নির্বাচিত হন শ্রেষ্ঠ ফরেন অভিনেত্রী হিসেবে।
  • ১৯৫৬ সালেই মেরিলিন গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড এর জন্য নির্বাচিত হন সেরা মোশন ছবির অভিনেত্রী হিসেবে
  • ১৯৫৮ সালে আবারো BAFTA এর জন্য মনোনীত হন The prince and Showgirl এর জন্য ।
  • ১৯৫৯ সালে তিনি অর্জন করেন ক্রিস্টাল স্টার অ্যাওয়ার্ড ।
  • ১৯৯৯ সালে তিনি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নারী তারকা হিসেবে ষষ্ঠ স্থান লাভ করেন ।১৯৬২ সালের ৫ আগস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসের ব্রেন্টউডে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন মনরো। ধারণা করা হয়, মাত্রাতিরিক্ত ঔষধ খেয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *