লুই পাস্তুর
January 8, 2018
লিও তলস্তয়
January 9, 2018
Show all

লেওনার্দো দা ভিঞ্চি

ইতালীয় রেনেসাঁসের কালজয়ী চিত্রশিল্পী লেওনার্দো দা ভিঞ্চি, পূর্ণ নাম  লেওনার্দো দি সের পিয়েরো দা ভিঞ্চি  ১৫ এপ্রিল, ১৪৫২ সালে  ফ্লোরেন্সেরঅদূরবতী ভিঞ্চি নগরের এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি বহুমুখী প্রতিভাধারি ছিলেন । ঘরোয়াভাবে লেখাপড়া করলেও কোনো রকমের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেননি দা ভিঞ্চি। প্রকৃতির প্রতি ভীষণ আগ্রহ থাকার কারণে তিনি বেশিরভাগ সময় বাইরেই কাটাতেন। তরুণ বয়সে আন্দ্রে ডেল ভেরোচ্চির কাছে শিক্ষানবিশ হিসেবে তাঁকে পাঠানো হয়। এরপর দ্রুতই তার প্রতিভার প্রকাশ ঘটে। বলা হয়ে থাকে, দা ভিঞ্চির “দা ব্যাপ্টিজম অফ ক্রাইস্ট” এতটাই সুনিপুণ হয় যে তা দেখার পর ভেরোচ্চি জীবনের জন্য আঁকা ছেড়ে দেবার পণ করেন।

লিওনার্দোর প্রাথমিক জীবন সম্পর্কে জানা গেছে খুবই অল্প। জীবনের প্রথম ৫ বছর কেটেছে আনসিয়ানোর একটি ছোট্ট গ্রামে। এরপর তিনি চলে যান ফ্রান্সিসকোতে। সেখানে তিনি তান বাবা, দাদা-দাদি ও চাচার সঙ্গে থাকেন। এ সময় তার বাবা এ্যালবিরা নামের ১৬ বছর বয়সী এক তরুণীকে বিয়ে করেন। এ্যালবিরা লিওনার্দোকে অনেক ভালবাসত। কিন্তু অল্প বয়সেই তার মৃত্যু হয়। ১৩ শতকের শেষ থেকে ১৬ শতক পর্যন্ত ছিল ইতালিয়ান রেনেসার যুগ। এ সময়ে সমগ্র ইউরোপ বিশেষ করে ইতালি ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রত্যেকটি শাখার উন্নতির চরম শিখরে। ভিঞ্চি ছিলেন সেই সময়ের একজন মেধাবী মানুষ।

তাঁর শৈল্পিক মেধার বিকাশ ঘটে খুব অল্প বয়সেই। আনুমানিক ১৪৬৯ সালে রেনেসাঁসের অপর বিশিষ্ট শিল্পী ও ভাস্কর আন্দ্রেয়া ভেরোচ্চিয়োর কাছে ছবি আঁকায় ভিঞ্চির শিক্ষানবিশ জীবনের সূচনা। এই শিক্ষাগুরুর অধীনেই তিনি ১৪৭৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষত চিত্রাঙ্কনে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। ১৪৭২ সালে তিনি চিত্রশিল্পীদের গিল্ডে ভর্তি হন এবং এই সময় থেকেই তাঁর চিত্রকর জীবনের সূচনা হয়। লিওনার্দোর আঁকা মোনালিসা। লিওনার্দো ১৪৮২ থেকে ১৪৯৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে মিলানে কাজ করেছেন।

এখানে তিনি ‘ভার্জিন অব দ্য রকস’ এবং ‘দ্য লাস্ট সাপার’ ছবি দুটি আঁকার দায়িত্ব পান। যা পরবর্তীতে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো ।‘দ্য লাস্ট সাপার’ ছবিটির প্রাথমিক বিষয়বস্তু হলো যীশুখ্রিস্ট ও তাঁর বারোজন শিষ্যের একত্রে নৈশভোজ। নৈশভোজে যীশু ঘোষণা করেন এই শিষ্যদেরই একজন পরদিন তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। লিওনার্দো দা ভিঞ্চি তার জীবদ্দশায় প্রকৌশলী হিসেবে অনেক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। লুভোডিকো মুরো নামক এক ব্যক্তিকে তিনি এক চিঠি দিয়ে দাবি করেছিলেন যে তিনি একটি শহরের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার জন্য সয়ংক্রিয় কিছু যন্ত্র আবিষ্কারে সক্ষম হয়েছেন।খেয়ালী রাজকুমারের মত এলোমেলো ভাবে নোটবুকের পৃষ্ঠায় ভিঞ্চি তার চিন্তাভাবনা লিখে রেখে গেছেন। তার নোট এবং ড্রয়িং থেকে দেখা যায় যে লিওনার্দো ব্যাপক বৈচিত্র্যময় বিষয়ের প্রতি আগ্রহী ছিলেন । তার চুড়ান্ত চিন্তাভাবনা কি তা বর্তমানে জানা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। আর মজার বিষয় হচ্ছে যে, সবকিছুই তিনি অসমাপ্ত রেখে গেছেন । বাঁকা চোখের চাহনি, চাপা হাসি আর রহস্যে ভরা মুখশ্রী যে নারী সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয় ছুয়েছে তার নাম অপরূপা মোনালিসা। লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এই ধরাধাম ছেড়ে যাওয়ার ঠিক এক যুগ আগেই আপন হাতের তুলির সুনিপুণ টানে ক্যানভাসে আঁকেন মোনালিসা। দীর্ঘ চার বছরের সাধনা আর অধ্যবসায়ের ফসল হলো এই চিত্র কর্মটি। লিওনার্দো কাজটা শুরু করেছিলেন ১৫০৩ সালে আর ইতি টানেন ১৫০৭ এ এসে। অনেকে বলেন মোনালিসার হাসি নিয়ে যে পরিমাণ গবেষণা হয়েছে তা দিয়ে একটা মহাকাব্য লিখা যাবে অতি সহজেই। “মোনালিসা” তৈরির সময় সাদা ক্যানভাসের উপরে বিভিন্ন স্তর তৈরির জটিল পদ্ধতি ব্যবহার করেন লিওনার্দো । আর এতে তিনি এতটাই দক্ষ আর সফল ছিলেন যে পরবর্তিতে আর কেউই এই পদ্ধতিতে সমানভাবে সফল হয়নি । বিভিন্ন অনুপাতের মিশ্রনের তৈলাক্ত স্তর ব্যবহার করে কাজটি করেন লিওনার্দো । এতে বিভিন্ন স্তরে আলাদা আলাদা ভাবে রং মিশিয়ে তিনি ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন “মোনালিসা” এর । শুধু মোনালিসাই নয় আরও বেশ কয়েকটি চিত্রকর্মে লিওনার্দো এই একই পদ্ধতি ব্যবহার করে গেছেন । শিল্পজগতে লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির এই কাজগুলো আজও সমান ভাবে রহস্যময় এবং শ্রেষ্ঠ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *