লেওনার্দো দা ভিঞ্চি
January 8, 2018
পাবলো পিকাসো
January 10, 2018
Show all

লিও তলস্তয়

লিও তল্‌স্তয় (২৮শে আগস্ট,১৮২৮ – ২০শে নভেম্বর, ১৯১০) একজন খ্যাতিমান রুশ লেখক। তাঁকে রুশ সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক, এমনকি বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। তাঁর দুইটি অনবদ্য উপন্যাস যুদ্ধ ও শান্তি (রচনাকাল ১৮৬৩-১৮৬৯) এবং আন্না কারেনিনা ( রচনাকাল ১৮৭৫-১৮৭৭) ।

১৮২৮ সালে একটি অভিজাত পরিবার এ জন্মগ্রহণ করেন তিনি । তার বাবা ছিলেন রাশিয়ার জমিদার এবং মা ছিলেন একজন গুণী মহিলা যিনি কয়েকটি ভাষা জানতেন এবং পিয়ান বাজাতে পারতেন । কিন্তু নয় বছর বয়সে মাকে হারান তলস্তয় এবং ফুপুর কাছে বড় হন । উপন্যাস লিখার প্রথম উৎসাহ তিনি ফুপুর কাছে থেকেই লাভ করেন । ষোলবছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে তিনি পড়তে যান কাজান বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেখানকার পড়াশোনার পাঠ না চুকিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের তৃতীয় বর্ষে বাড়ি ফিরে আসেন। এর চারবছর পরে  সৈন্যবাহিনীতে নাম লেখান এবং ককেশীয় অঞ্চলে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধের অভিজ্ঞতার ভিতর শৈশব নিয়ে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘চাইল্ডহুড’ লিখেন। দু’বছর পর সেবাস্তোপলে বদলি হয়ে ক্রিমিয়ার যুদ্ধে লড়াই করেন এবং  সে অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেন ‘স্টোরিজ অফ সেবাস্তোপল’। ১৮৬২ সালে তিনি প্রতিবেশি এক জমিদারের কন্যা সোফিয়া আন্দ্রিভনা বের্হসকে বিয়ে করেন। ওই বছরেই রাশিয়ার ধনী কৃষকদের জীবন নিয়ে লিখেন “কসাকস” উপন্যাস । জমিদার পুত্র হয়ে বিলাসিতার জীবনকে তিনি উপন্যাসের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন । সে সময়ে রাশিয়ায় দাসপ্রথা চালু ছিল, তিনি এর বিপক্ষে প্রচারণা চালালেন, ছিলেন পুজিবাদের বিরোধী। সাহিত্যের পাশাপাশি তিনি অনেক নীতিকথামূলক পুস্তিকা লিখেছেন ও প্রচার করেছেন। অর্থডক্স চার্চের বিভিন্ন ভুলত্রুটি প্রকাশ্যে তুলে ধরতে লাগলেন আর নিজের উদ্ভাবিত সহজ-সরল খ্রিস্টিয় ধারণা প্রচার করতে লাগলেন। এ কারণে ১৯০১ সালে অর্থডক্স চাচের্র বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

ধর্ম-সর্স্পকিত তাঁর ধারণাসমূহ খ্রিস্টিয় মতাদর্শ আশ্রয়ী হলেও  তাতে বৌদ্ধধর্মের চেতনাই বেশি প্রতিফলিত। পুজিবাদ ও শোষণ বিরোধী সংগ্রামে তিনি অহিংস প্রতিবাদের কথা বলেছেন। এ থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ আন্দোলনের প্রবর্তক গান্ধীজি ও আমেরিকার কালো মানুষদের নেতা মার্টিন লুথার কিং। তলস্তয়কে মাহাত্মা গান্ধী তিনি অহিংস আন্দেলনের সবচেয়ে ‘বড় গুরু’ বলে স্বীকার করেছিলেন। আশ্চর্য নয় যে, দক্ষিন আফ্রিকায় গান্ধীজির আশ্রমটির নাম ছিল তলস্তয় কলোনি।

একেবারেই সাদাসিধে জীবন যাপনে বিশ্বাসী ছিলেন তিনি । পিতার জমি যখন তার ভাইদের মধ্যে ভাগ করা হয় তখন তিনি সব থেকে অনুরবর অংশ টি নিয়েছিলেন । এমনকি মৃত্যুর পর তাকে যেন সবচেয়ে সস্তা কফিনে সমাহিত করা হয়, নিকটজনদের তা বলে গিয়েছিলেন। রাশিয়ার অভিজাত শ্রেণির দায়িত্বজ্ঞানহীন, ইন্দ্রিয়পরায়ন জীবনচর্চ্চায় তাঁর বিবমিষা জাগে, তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন আর তা থেকে মুক্তি পেতে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। সেনাবাহিনীর জীবনে গিয়ে লিখেন প্রথম আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস চাইল্ডহুড ।

তলস্তয় এর অর্জন অনেক । ২০০৭ সালে পরিচালিত এক জরীপ অনুযায়ী সর্বকালের সেরা দশটি উপন্যাসের তালিকায় আনা কারেনিনা প্রথম আর ওয়ার এন্ড পীস তৃতীয়, অর্থাৎ সেরা দশের দুটিই তলস্তয়ের রচনা, তাও শীর্ষের। তলস্তয় কোন মাপের ঔপন্যাসিক তা বোঝাতে এই পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। টাইম ম্যাগাজিনের মতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস হচ্ছে ওয়ার এন্ড পিস। দস্তয়ভস্কি তলস্তয়কে জীবিত সকল লেখকদের ভিতর শ্রেষ্ঠ ভাবতেন। ওয়ার এন্ড পিস পাঠ করে ফ্লবেয়ার মস্তব্য করেছিলেন, ‘কী মহান শিল্পী, কী অসামান্য মনস্তত্ত্বিক!’ ।

তলস্তয় এর একটি রচনা ওয়ার এন্ড পিস – কে বলা যায় দানব আকৃতির উপন্যাস । এতে প্রধান চরিত্রই আছে ৫৮০টি, যারা চারটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য। বংশানুক্রমিক ও জটিল উপন্যাসটির প্রেক্ষাপটে রয়েছে ইতিহাস, নেপোলিয়নের রাশিয়া আক্রমণের ঘটনা।

শেষ বয়সে দাম্পত্য জীবনে সমস্যার কারণে এক স্টেশনমাস্টারের বাসায় উঠেছিলেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি ২০ নভেম্বর ১৯১০ সালে ।

তলস্তয়ের জীবনের ঘটনাবহুল শেষ বছরটি নিয়ে গতবছর ‘দ্য লাস্ট স্টেশন’ নামে একটি চলচিত্র নির্মিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *