লিও তলস্তয়
January 9, 2018
থমাস আলভা এডিসন
January 10, 2018
Show all

পাবলো পিকাসো

পাবলো পিকাসো হচ্ছেন প্রখ্যাত চিত্রকর ও ভাস্কর এবং চিত্রকর্মে কিউবিজম অধ্যায়ের প্রবর্তক । রাজনৈতিকভাবে তিনি ছিলেন একজন শান্তিবাদী এবং সাম্যবাদী। তিনি আমৃত্যু ফরাসি কমিউনিষ্ট পার্টির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তার সংক্ষিপ্ত নাম পাবলো পিকাসো কিন্তু মূল নামটি মুলত ২৩টি শব্দ নিয়ে গঠিত । তার পুরো নাম পাবলো দিয়াগো হোসে ফ্রান্সিসকো ডি পওলা জোয়ান নেপোমেসিনো মারিয়া ডি লস রেমেডিওস সিপ্রিয়ানো ডি লা সান্টিসিমা ত্রিনিদাদ রউস ই পিকাসো। তার বাবার নাম ডন জোসে রুইজি বস্নাসকো ও মায়ের নাম মারিয়া পিকাসো লোপেজ। পিকাসোর বাবা ছিলেন বার্সেলোনার চারুকলা বিদ্যালয়ের অধ্যাপক। পিকাসোর শিল্পী হওয়ার পেছনে তার অবদান অগ্রগণ্য। অল্প বয়স থেকেই আঁকাআঁকিতে পিকাসোর ঝোঁক ছিল। ১৮৯০ সালের আগে ফিগার ড্রইং ও তৈলচিত্রের আনুষ্ঠানিক হাতেখড়ি বাবার কাছেই। বাবা একদিন দেখলেন, তার অসমাপ্ত কবুতরের চিত্রটি পিকাসো এত নিখুঁতভাবে আঁকছেন যে, মনে হল না এটি ১৩ বছরের কোনো ছেলে আঁকতে পারে। মনে হল পিকাসো বাবাকে অতিক্রম করে গেছেন। এরপর পিকাসোর বাবা পেইন্টিং ছেড়ে দেন।  পিকাসো ১৪ বছর বয়সে ১৮৯৫ সালে স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরীক্ষায় পাস করেন। এর দুই বছর পর মাদ্রিদের রয়্যাল একাডেমিতে পড়াশোনা করতে যান। সমালোচকদের নজর কাড়েন পিকাসো ১৯ বছর বয়সে । বাস্তবধর্মী বা রিয়ালিজমের মূল জায়গাটাকে তিনি ছোট্ট বয়সেই অর্জন করেন। তার পর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চলে বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা, নানা ভাবে ছবিকে ভাঙার কাজ। এ বিষয়ে পিকাসোর অভিমত, ‘ছোটবেলায় তিনি ওল্ড মাস্টারদের মতো আঁকতেন। আর বড় হয়ে শিশুদের মতো। ’ তাই তাঁর পরবর্তী ছবিগুলোতে ছিল শিশুদের সেই স্বাধীন, কোনও কিচ্ছু পরোয়া না-করা মনটা। ‘ব্লু পিরিয়ড’ এ তিনি রেস্তোরাঁয় খেতে আসা রুগ্ন, জীর্ণ চেহারার গরিব মানুষের ছবি আঁকতেন। এ ছবিগুলো ছিল মূলত নীল রঙে আঁকা।

এ সময় থেকেই তিনি পরিচিত হতে শুরু করেন। শিল্পমাধ্যমের ওপর তাঁর ক্ষমতা, প্রতিভা স্বীকৃতি পেতে থাকে। পিকাসোর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য- তিনি চিত্রকর্মের প্রত্যেক পর্যায়ে তার আগের পর্যায় থেকে সরে এসেছেন। এক-একটা পর্যায়কে ভেঙে আর একটা পর্যায়ে গেছেন। আর এই সব কিছুর সঙ্গেই তার গভীর আত্মিক যোগ ছিল। আগাগোড়া এক শিল্পীর জীবন তিনি কাটিয়ে গেছেন। তার প্রত্যেকটা ছবির মধ্যেই আসল মানুষটিকে খুঁজে পাওয়া যায়। ‘ওয়ার্ল্ড আর্টে’ তিনি যে বৈপ্লবিক অবদান রেখে গেছেন- তা অন্য কারও মধ্যেই দেখা যায় না। সেখানে তার অবস্থান এতটাই তীব্র, মনে হয় না অন্য কোনো শিল্পী পাবলো পিকাসোকে শিল্পে তার জায়গা থেকে সরাতে পেরেছেন। পিকাসোর সৃজনশীলতা ছিল বাঁধনহারা। সব সময়ই নতুন কিছু খোঁজার চেষ্টা করতেন। যদিও তিনি বলতেন, ‘আমি কিছু খুঁজি না, আমি পেয়ে যাই’ ।
উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম :

পাবলো পিকাসোর উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম হল- ল্যা মুল্যাঁ দা ল গালেৎ, দ্য ব্লু রুম, ওল্ড গিটারিস্ট, সালত্যাঁবাঁক, সেলফ-পোর্ট্রটে, টু নুডস, আভাগঁর রমণীরা, থ্রি মিউজিশিয়ানস, স্কাল্পটর, মডেল অ্যান্ড ফিশবৌল, থ্রি ড্যান্সার্স, গিটার, গ্লাস অব আবস্যাঁৎ, সিটেড বাথার, পালোমা ও গোয়ের্নিকা। পিকাসো একের পর এক ছবি এঁকেছেন, ভাস্কর্য গড়েছেন, প্রিন্ট ও খোদাইয়েরও কাজ করেছেন। যখন কাজ করতেন না তখন মেতে থাকতেন ষাঁড়ের লড়াই নিয়ে। এছাড়া ১৯৩৫-১৯৫৯ সাল পর্যন্ত তিন শতাধিক কবিতা লিখেছেন তিনি। এবং এসব চিত্রকর্ম বিক্রি হয়েছে অত্যন্ত উচ্চ মূল্যে যা অনন্যাো চিত্রশিল্পীদের তুলনায় অনেক বেশী ।

১৯৭৩ সালের ৮ এপ্রিল ফ্রান্সের মৌগিন্সে মারা যান পাবলো পিকাসো। মৃত্যুর ঠিক আগে তিনি তার স্ত্রী ও বন্ধুদের সঙ্গে ডিনারের টেবিলে ছিলেন।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *