থমাস আলভা এডিসন
January 10, 2018
নিজেকে আরও বেশি কর্মক্ষম করে তোলার উপায়
January 22, 2018
Show all

আপনার সময় কোথায় যাচ্ছে !!

এখন থেকে আপনাকেই খুঁজে বের করতে হবে সবথেকে বড় কারণটি, যা আপনার আরও কর্মক্ষম হওয়ার লক্ষ্য কে ত্বরান্বিত করবে। আমাদের যা করতে হবে তা হচ্ছে নিচের দুই ধাপের অনুশীলনটিঃ

১। প্রথমে, আমাদের খুঁজে বের করতে হবে যে আপনার সময় কোথায় নষ্ট হচ্ছে

২। দ্বিতীয়ত, আপনার রুটিন থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিষগুলো বাদ দিতে হবে।

আজকে আমরা খুঁজে বের করবো যে আপনার সময় কোথায় নষ্ট হচ্ছে এবং আগামীকালের বিষয় হবে খুঁজে বের করা যে আপনার রুটিন থেকে কোন কোন অপ্রয়োজনীয় জিনিষগুলো বাদ দিতে হবে।

আমরা সবাই স্মার্টফোনের যুগে বাস করি অর্থাৎ, আমরা খুব দ্রুত যেকোন জায়গায় প্রবেশ করতে পারি এবং তার থেকেও দ্রুত কোন কিছুর থেকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলি। সময়ের চাপ এক মুহুর্তে কয়েকগুণ বেশি বেড়ে যায়। এটি আধুনিক জীবনের একটি নিখুঁত সত্যঃ আমরা একদমই সময় পাই না। যেহুতো সময় এমন একটি সম্পদ যার নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নাই, আমাদের দরকার এটি ঠিকভাবে রক্ষা করা, পরিকল্পনা করা এবং কিভাবে এর সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যায় তা নিশ্চিত করা। যেখানে আমাদের কিছুই করার নাই অতীত কে ঠিক করার ক্ষেত্রে সেখানে আমাদের অনেক কিছু করার আছে বর্তমান সময় কে আরও কার্যকর করতে।

সুতরাং, আরও মহান কাজ করার জন্য, আপনার নিজেকেই নিজের সময়ের মালিকানা গ্রহণ করতে হবে।

তো শুরু করা যাক আজকের কাজ। একটি খাতা ও কলম নিন বা আপনি একটি ওয়ার্ড ডকুমেন্টেও কাজটি করতে পারেন। কিন্তু আমার মতামত হবে পুরাতন নিয়মে খাতা কলমেই করা। যা আপনার জন্যই সহজ এবং লিখার ফলে আপনার ব্রেইন তা খুব দ্রুত প্রসেস করতে পারবে। আমরা কাজটি শুরু করবো একটি “brain dump” এর মাধ্যমে। যেমনঃ আপনার গত মাসের কাজের দিকে তাকানঃ

  • একদম শীর্ষে আপনার গত মাসের প্রধান তিনটি কাজ/ প্রজেক্ট রাখুন যা ছিল আপনার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ( আসুন এদের নাম দেই “ goals”)
  • তার নিচেই কাগজের মাঝ বরাবর একটি সরলরেখা টানুন
  • বামপাশে আপনি ঐ কাজগুলো লিখুন যা আপনাকে ফলাফল এনে দিয়েছে। আমরা এই কাজগুলো কে বলবো “meaningful work”.
  • ডানপাশে আপনি ঐ কাজগুলো লিখুন যা আপনাকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাঁধা দিয়েছে বা আপনার কাজকে ধীর করে দিয়েছে। আমরা এই কাজগুলো কে বলবো “meaningless work”.

ঐ সবকিছু নিয়ে চিন্তা করুন যা আপনি গতমাসে করেছেন তারপর নিজেকে প্রশ্ন করুন “এই কাজটি কি আমাকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে?” যদি হ্যাঁ হয় তবে কাজটি কে বাম কলামে লিখুন অন্যথা এটিকে ডান কলামে যোগ করুন।

আপনি যা কিছু মনে করতে পারেন ঐসব কিছু কে তালিকাভুক্ত করেন- পড়াশুনা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ঘুরতে যাওয়া, ইন্টারনেট সার্ফিং, মিটিং, সহকর্মীদের সাথে কফি খাওয়া, প্রেজেন্টেশন তৈরি করা ইত্যাদি।

এখানে একটি নমুনা উদাহরণস্বরূপ দেয়া হলোঃ

Goals

Edutube এ আরও ভিউয়ার বাড়ানো

নিজের ব্লগে চারটি নতুন আর্টিকেল যোগ করা

Edutube এর “Most viewed writer” হওয়া

·        Edutube এর বর্তমান গ্রাহকদের জন্য আরও নতুন ফিচার যোগ করা

·        Facebook এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া

·        ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে Edutube নিয়ে পোস্ট করা এবং নতুন গ্রাহকদের আগ্রহী করে তোলা

·        আমার নতুন আর্টিকেলের বিষয়ে গবেষণা করা এবং এই বিষয়ে অন্যান্য আর্টিকেল পড়া

·        ব্লগের জন্য আর্টিকেল লিখা এবং সম্পাদনা করা

·        Edutube এর অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেওয়া

·        ইন্টারনেটের বিনা কারণে অনেকবেশী সময় দেওয়া

·        টিভি দেখা কাজের সময়গুলোতে

·        Whatsapp এবং Messenger এ বসে সারাদিন ম্যাসেজ দেখা

·        ওয়েব সিরিজের পিছনে অনেক সময় দেয়া

·        আমার টপিকের বাইরেও Edutube এর অন্যান্য ব্লগের কমেন্টস দেখা

·        ফেসবুকের পোস্টের লাইক চেক করা

·        রাতে জেগে থাকা

 

আমি আরও লিখতে পারতাম কিন্তু আপনারা এর থেকে ধারণা পেয়ে গেছেন। আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে কি কি করা উচিত তা যদি আর সহজ করে লিখিঃ

Edutube এ আরও ভিউয়ার বাড়ানো Edutube এর প্রচারণা বাড়ানো
নিজের ব্লগে চারটি নতুন আর্টিকেল যোগ করা পোস্ট লিখা
Edutube এর “Most viewed writer” হওয়া মানসম্মত ও ইন্টারেস্টিং ব্লগ লিখা

 

এই ছকের ডান কলামে যা আছে তাছাড়া অন্য যা কিছু করছি তাই আসলে সময় নষ্ট করা।

যারা কোন কোম্পানির জন্য কাজ করেন তাদের সময় নষ্ট করার কিছু দিক হলোঃ

  • অত্যধিক ইমেল
  • সহকর্মীদের সাথে অনলাইন বা অফলাইনে অনেকবেশি কথা বলা
  • পয়েন্টলেস মিটিং
  • ফোন বা কম্পিউটারে অনবরত নোটিকেশন দেখা
  • অন্য কাজে ইন্টারনেট সার্ফিং

মনে রাখবেন কিছু কার্যকলাপ একই সময়ে অর্থপূর্ণ এবং অর্থহীন হতে পারে। আপনার লক্ষ্যগুলির মধ্যে একটি বড় অগ্রগতি অর্জন করে এমন ইমেল বা মিটিং বাম কলামে রাখা উচিত। কিন্তু যে কাজের সাথে আপনি জড়তি না তেমন কোন ইমেইল বা মিটিংগুলোকে ডান কলামে রাখুন।

এখন আপনার কাজ হল অনুশীলনটি করা।

আমরা আগামীকাল দেখবো কি করে জীবন থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিষগুলো বাদ দিতে হবে। তাহলে আমরা অনেক সময় পাবো আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *