শিশুর লম্বা ছুটি- কিভাবে কাটাবেন?

শিশুদের ইন্টারনেট আসক্তি : প্রতিকার ও প্রতিরোধ
January 24, 2018
এস টি ই এম(S.T.E.M) কি ? কেন আমাদের এস টি ই এম শেখানো উচিত ?
January 31, 2018
Show all

শিশুর লম্বা ছুটি- কিভাবে কাটাবেন?

ব্যস্ত সময়, ব্যস্ত দিন,ব্যস্ত বাবা মা এমনকি সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত সময় পার করতে হয় ছোট্ট শিশুটিকেও। বাবা মা যেমন সারাদিন অফিসের কাজে আর নানা কাজে ব্যস্ত তেমনি শিশুরাও সারাদিন স্কুল, হোম ওয়ার্ক, হোম টিউটর নিয়ে ব্যস্ত। এর মাঝেই  দু দন্ড প্রশান্তি নিয়ে আসে একটা লম্বা ছুটি। শিশুরা সব সময়ই এই ছুটির জন্য মুখিয়ে থাকে ।তবে দরকার আগে থেকে একটু পরিকল্পনার। ছুটির প্রতিটি দিন যাতে কাজে লাগে, আনন্দময় করে তোলা যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। অন্য ভাষায় একে ভ্যাকেশন ম্যানেজমেন্টও বলতে পারেন।

কিভাবে শিশুর এই ছুটির সময় কাটাবেন বা সদ্ব্যবহার করবেন তানিয়েই আজকে আমাদের এই লেখা।

শিশুদের চারটি বিষয় বিকাশ হওয়া খুবই জরুরি—কোনো কিছু চিন্তা করার শক্তি, সামাজিক মেলামেশা, মানসিক ও শারীরিক বিকাশ।

সন্তানের সঙ্গে মাবাবারও ছুটি
আপনি হয়ত কর্মজীবী মা অথবা বাবা , সারা বছরই ব্যাস্থ থাকন নানা কাজে।  প্রতিষ্ঠান বড় হোক কিংবা ছোট, বছরে একটি নির্দিষ্ট ছুটি বহাল থাকে আপনার জন্য। এ ছুটিগুলোবিভিন্ন সময়ে না নিয়ে বাচ্চার স্কুল বন্ধের সময়টার জন্যই জমিয়ে রাখুন। তাদের ছুটির সময়ে আপনি বা আপনারাও ছুটি নিতে পারেন। লম্বা না হোক, অল্প সময়ের জন্যই নিন। কিছুটা মুহূর্ত তো একসঙ্গে থাকতে পারবেন।

ইট কাঠের শহর থেকে কিছু দিনের ছুটি নিন  

ছুটিতে শিশুকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে কিছুদিন কাটিয়ে আসুন। প্রকৃতির মাঝেও তো পড়াশোনা সম্ভব। নতুন গাছপালা চেনা, প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখা। আকাশের রং যে তিন বেলা তিন রকম হয়, তা কি আপনার সন্তান কখনো খেয়াল করেছে, ছুটির ভেতরেও গ্রামে যাওয়ার বিষয়টি প্রথমেই আসা উচিত। না হলে ঢাকার বাইরে কোথাও। সেটা সিলেটেও হতে পারে অথবা ময়মনসিংহের কোনো রিসোর্টেও হতে পারে।’
বাইরে ঘুরতে যাওয়ার বিষয়টি যে ঢাকার বাইরেই হতে হবে তা কিন্তু নয়। আপনার ছেলে বা মেয়ে কি লালবাগের কেল্লা দেখেছে? জাদুঘর দেখেছে? বোটানিক্যাল গার্ডেন? না দেখে থাকলে ঢাকার ঐতিহাসিক বা বিখ্যাত জায়গাগুলো দেখার  সুযোগ করে দিন।  এত দিন তো বইয়ে পড়েছে, এবার চাক্ষুষ করুক।

 

আত্মীয়ের বাসায়ও বেড়িয়ে আসতে পারেন

সারা বছর তো এ রকম সুযোগ পাওয়া যায় না। মামার বাসায়, চাচার বাসায় থাকতে দিন আপনার সন্তানকে। অন্যদের সঙ্গে মেশাও হবে, তাদের সঙ্গে বন্ধনও দৃঢ় হবে। নিকট আত্মীয়র ভেতর যদি ছোট বাচ্চা থাকে তবে আপনার ছুটির দিনটিতে তাদের বাড়িতে আসতে বলতে পারেন,এতে বাচ্চাদের সময়টা কিন্তু দারুন কাটবে। কিনে দিতে পারেন ঘরে খেলার উপযোগী নানান রকম খেলনা, যাতে বুদ্ধির চর্চা হয়। যেমন দাবা, মনোপলি, বিভিন্ন রকম পাজল সেট।তাদের মধ্যে করতে দিতে পারেন এমন কিছু প্রতিযোগিতা যাতে তাদের নিজেদের ও ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট হবে।

 একসাথে সময় কাটান 

সকালে নাশটার সময় বা রাতে খাওয়ার টেবিলে,যখন পারবেন দিনের একটা সময় পরিবারের সবাই এক সঙ্গে সময় কাটান। কোনও গুরু গম্ভীর আলোচনা নয়, টিচার বা পড়ার গল্প নয়। ছুটির মেজাজে ওর সাথে গল্প করুন।

শিশুকে নিজেকে উন্নত করতে শেখান একটু একটু করে

  • নিজের ঘর গোছানো,জিনিস পত্র প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা করা, অতিরিক্ত জিনিস যা সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের দেয়া যায় সেগুলো একসাথে আলাদা করে রাখতে পারে, এতে করে তাদের মনে দায়িত্ব বোধ তৈরি হবে।
  • নতুন ভাষা,গান শিখতে পারে।শিখতে পারে আরবি ও, যা স্কুল খোলা থাকা অবস্থায় সময়ের অভাবে করা হয়ে উঠে নি।
  • গাছ লাগিয়ে শেখাতে পারেন বাগান করা, কিংবা একুরিয়াম কিনে মাছ পালন। এছাড়া সাইকেল চালানো, সাতার কাটা, কারাতে এগুলো শেখার সময় ও কিন্তু এই লম্বা ছুটি।
  • অনেক সময় দেখা যায় মা র সাথে রান্না ঘরে ঘুর ঘুর করছে, তাকে শিখিয়ে দিন কিভাবে হালকা কাজ গুলো করতে হয়। সালাদ বানানো শেখাতে পারেন । এতে করে আপনার কাজেও সাহায্য হবে আর স্কুলে যাওয়ার সময় নিজেই নিজের টিফিন গুছিয়ে নিতে পারবে।
  • ক্রাফটিং-ক্যালন্ডার,গ্রিটিং কার্ড, ছবি রাখার বোর্ড বানানোর মত সহজ কিছু শিখিয়ে দিন। নিজের ইছছামত ছবি আঁকতে দিন,শিশু যেমন চায়। নিজের ইচ্ছামতো অথবা সারা দিন কী দেখল, কী শিখল তা আঁকতে বলুন। এছাড়া কাপরে রঙ করাও শিখিয়ে দিতে পারেন।

ছুটির পড়া

স্কুল থাকলেও পড়া, না থাকলেও পড়া। আসলে ছুটির সময় শিশুরা কিন্তু পড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। স্কুল খুললে দেখা যায়, চর্চার অভাবে অনেক বিষয়ই সে ভুলে গেছে। ছুটিতে তাই একটু অন্য রকম পদ্ধতিতে চাইলে পড়াশোনার সঙ্গে সংযোগ রাখতে পারেন।

  • একদম জোর করা যাবে না। পড়ার বই না পড়তে চাইলে গল্পের বই পড়তে দিন। সারা দিন ধরে পড়ুক।
  • স্কুল থেকে যদি কোনো বাড়ির কাজ দেওয়া হয়, তাহলে মা-বাবা সেটা করতে সহায়তা করুন। এতে কিছুক্ষণ একসঙ্গে থাকাও হবে।’ লম্বা ছুটিতে একদম পড়ালেখা না করলে অনেক সময় শিশুদের হাতের লেখা ধীর হয়ে যায়। অনেক কিছু ভুলে যায়। মেরিনা কবির বলেন, শিশুরা তাড়াতাড়ি শুনছে, পড়ছে, আবার ভুলেও যায় ঠিক সেভাবেই। এ জন্য স্কুলের পড়া করতে না চাইলে একটু অন্যভাবে পড়াতে হবে।
  • ছুটির পড়া কীভাবে করাবেন, রইল তারই কিছু টিপস।
  • সন্ধ্যাবেলা বাইরে থেকে বাসায় এলে শিশুকে জিজ্ঞেস করুন সারা দিন সে কী করল। হাত-মুখ ধুয়ে এটার ওপরই না হয় মজা করে কিছু লিখে ফেলল।
  • গল্পের বই পড়তে দিন। এবার ঝটপট লিখে ফেলুক, তো কী পড়ল।
  • ডায়েরি লেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে তাকে সাহায্য করতে পারেন। সারা দিন কী করল, সেটাই না হয় দু-তিন লাইনে লিখল। হাতের লেখা সুন্দর করতে বা অভ্যাস রাখা যাবে এসবের মাধ্যমে।
  • শিশুর খেলার পুতুলটার মাধ্যমেও শেখানো সম্ভব। পুতুলটা সারা দিন কী করল, তাকে কী বলল—কথাচ্ছলে জানতে চান। শিশু নিজে কিছু শিখতে না চাইলে পুতুলকে শেখাচ্ছেন, এমন ভাব করে কথা বলুন। দেখবেন, সেটা আপনার শিশুও শিখে যাবে ঠিক ঠিক।
  • টেলিভিশন দেখতে বেশি উৎসাহিত করবেন না।
  • আপনার শিশু কি ছবি আঁকতে পছন্দ করে? এত দিন বোধহয় স্কুলের সিলেবাস অনুযায়ী আঁকতে হতো। ছুটিতে ওর হাতে রং-পেনসিল দিয়ে বসিয়ে দিন। নিজের ইচ্ছামতো অথবা সারা দিন কী দেখল, কী শিখল তা আঁকতে বলুন।

তো আর একঘেয়েমি নয় । একটু সময় বের করে বাচ্চার ছুটির দিন গুলোকে আর একটু বেশি মজার করে তুলুন আর কাজে লাগান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *