শিশুর লম্বা ছুটি- কিভাবে কাটাবেন?
January 24, 2018
কিশোর বয়সের হতাশা ও বাবাদের ভূমিকা
February 5, 2018
Show all

এস টি ই এম(S.T.E.M) কি ? কেন আমাদের এস টি ই এম শেখানো উচিত ?

 

 

এস টি ই এম শব্দটি বিজ্ঞান প্রযুক্তি প্রকৌশল ও অংকের সংক্ষিপ্ত রুপ । এটি শিক্ষাদানের সুনিদিষ্ট পদ্ধতি বা উপায় নয় বরং বাস্তব জগতের কারিকুলামের ভিতর এই সকল বিষয়কে একীভুত করার এক অনন্য উপায় , সমস্যা সমাধানের কর্মকান্ড । শিক্ষায় এস টি ই এম তোমাদের পাঠ্য পরিকল্পনায় নতুন কিছু যোগ করে না বরং এটি  বিজ্ঞান ও অংক শেখায় উদ্ভাবনী এবং সক্রিয় উপায়ে । প্রায়ই  দেখা যায় এস টি ই এম প্রকল্প গুলো প্রকৌশল প্রকল্পগুলোর সমার্থক এবং নিজেরা একীভূত , প্রকৌশল প্রকল্প গুলো এস টি ই এম বড় প্রকলপের  একটি ছবি মাত্র । এছাড়াও দেখা যায় বিভিন্ন শব্দের আদ্যাক্ষর নিয়ে গঠিত শব্দ  এস টি ই এ এম  যেখানে “এ” যুক্ত রয়েছে । “এ”অর্থ বহন করে ও যুক্ত করার  উৎসাহ যোগায়  আর্টস বা কলা এবং সকল কলা, ভাষার কলা – লেখা,পড়া , নাটক ও দৃষ্টিলব্ধ কলা ও নকশা ।

কেন আমাদের এস টি ই এম শেখানো উচিত ?

এখানে  এস টি ই এম কে প্রাথমিক ক্লাস রুমে ফোকাস এর ১০ টি প্রধান কারণ উল্লেখ করা হল ঃ

১। বাস্তব জগতে প্রয়োগ-

বলুন তো কতবার আপনার শিক্ষার্থী জিজ্ঞাসা করে কেন আমরা এটি শিখছি? এস টি ই এম প্রকল্প এই প্রশ্নের উত্তর দেয় অতি উৎসাহের সাথে যে বাস্তব জগতের অংক ও বিজ্ঞান সমস্যা এটি ব্যবহারেই সমাধান  করা যায় । সম্ভবত তারা সীমা ও পরিসীমা ব্যবহার করে একটি চিড়িয়াখানার নকশা অথবা অংক ও জটিল চিন্তা দ্বারা এটির পরিকল্পনায় একটি পুরো ছুটি ব্যয় করছে । অনেক এস টি ই এম প্রকল্প বাস্তব জগতের প্রসঙ্গে দক্ষতা পেশ করে ।

২। সমস্যা সমাধান-

শিক্ষার্থীদের অনুশীলনীর সমস্যা সমাধানের একক সঠিক উত্তরের প্রয়োজন থাকবে না । তাদের অনুশীলনী পরীক্ষামূলক ও ভুলভ্রান্তিমূলক এবং সেগুলো কিভাবে উদ্ভাবনমুলক উপায়ে সমাধান আসবে । তাদের অনুশীলন অপসারণ ও উপযোগীতামুলক। এই সকল দক্ষতা যে কেউ জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারে ।

৩।  হাতে কলমে –

শিক্ষার্থীরা অনেক বিজ্ঞান সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাজ শেখে ও অনেক এস টি ই এম প্রকল্পের মাধ্যমে শেখে  । তারা শুধু পড়ে নয় , সমস্যা সমাধানের উপায় খোঁজে অথবা সেটার কাঠামো দাঁড় করে ।

৪। শ্রেষ্ঠত্বের পার্থক্যে নির্দেশ

সম্ভাব্য সমাধানের যখন কোন নম্বর থাকবে , অধিকাংশ এস টি ই এম কাজ করে সেগুলো পৃথকীকরণের জন্য । প্রত্যেকেই আলাদা ভাবে সমস্যা সমাধান করবে তার সর্বোচ্চ দক্ষতা দিয়ে । কিছু সময় দেখবে তোমাদের কিছু শিক্ষার্থী যারা গতানুগতিক খুব ভালো ছাত্র নয় ,তারাও এস টি ই এম প্রকল্পে উন্নতি লাভ করবে । এটি সত্যিই সকলের জন্য উন্মুক্ত একটি প্লাটফর্ম ।

৫। সহযোগীতার শিক্ষা-

এস টি ই এম প্রকল্প শিক্ষার্থীদের একটি দলভুক্ত করে কাজ করার সুযোগ দেয় । তারা শেখে এবং সমাধান করে একত্রে বিভিন্ন নিয়ম কানুন প্রয়োগ করে । দলভুক্ত কাজ ও দক্ষতা শুধু বিদ্যালয়েই নয় বাস্তব জীবনে করতে হয় বটে ।

৬। সৃজনশীলতার প্রবেশ-

এস টি ই এম কর্মকান্ড শিক্ষার্থীদের সুযোগ করে দেয় তাদের সৃজনশীলতার দিকগুলো । বৃত্তের বাইরে তারা চিন্তার সুযোগ পাবে, ব্যবহার করার সুযোগ পাবে কলা ও নকশার । আপনার সৃজনশীল শিক্ষার্থীরা জীবনকে উজ্জ্বল করার সুযোগ পাবে ।

৭। ব্যর্থতা-

এস টি ই এম প্রকল্প শিক্ষার্থীদের সুযোগ করে দেয় নকশা অথবা সমাধানের চেষ্টা করার- যা কাজ নাও করতে পারে । এই প্রকল্পে তারা ব্যর্থ হয় নিরাপদ ও সহযোগী পরিবেশে যা তাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে দেয় । সর্বোপরি পৃথিবীর সকল সৃষ্টি ও আবিস্কার হয়েছিল ব্যর্থতা ও ভুল থেকেই ।

৮। উচ্চতর পর্যায়ে চিন্তা

শিক্ষার্থীরা অবশ্যই তাদের মেধা ও জ্ঞান প্রয়োগ করবে সমস্যা সমাধান করতে ও প্রকল্প শেষ করতে ।

৯। সক্রিয় অংশগ্রহন

শিক্ষার্থীরা যখন এস টি ই এম প্রকল্পে কাজ করবে তাদের সক্রিয় অংশ গ্রহণ নিশ্চিত হবে । তারা দিবাস্বপ্ন অথবা হিজিবিজি কাটছে না , বরং তারা অংশগ্রহন করছে , সমাধান করছে, মাফছে ও কাজ করছে ।

১০। ভবিষ্যৎ এস টি ই এম-

নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ঘটেছে তাই নতুন এস টি ই এম পেশা কাজ করছে । এটি শুধু ডাক্তার , ইঞ্জিনিয়ার নয় বরং স্থপতি , গ্রাফিক ডিজাইন , ভিডিও গেম প্রোগ্রামার এবং অনেক কিছু । চিন্তা কর কিভাবে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন আমাদের পৃথিবী টাকে সমৃদ্ধ করেছে । এটা ধারনাও করা যাচ্ছে না এস টি ই এম এর ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা কি করতে যাচ্ছে ।

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *