চাকরিতে প্রবেশের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি পর্ব -১
March 4, 2018
চাকরিতে প্রবেশের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি পর্ব -২
March 8, 2018
Show all

ই-কমার্স ও সম্ভাবনা

এখন সময়টা ই-কমার্সের। ই-কমার্সের মানে ইলেকট্রনিক কমার্স। যার অর্থ হলো- ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়ের কাজ সম্পন্ন করা। দুই দশক আগে বাংলাদেশে ই-কমার্সের তেমন ব্যাপকতা ছিল না, তখনও মানুষ ভাবতে পারেনি বাজারে না গিয়ে ঘরে বসেই তার চাহিদামাফিক পছন্দের জিনিসটি খুব সহজেই কিনে নিতে পারবেন। এখন প্রেক্ষাপট পাল্টে গেছে। ই-কমার্স এখন শহুরে শিক্ষিত সমাজে বেশ চালু হয়ে গেছে বলা যায়। এর মাধ্যমে সহজে ঝক্কি-ঝামেলা থেকে মুক্ত হয়ে চাহিদা অনুযায়ী কেনাকাটা করা যায় বলে দিনে দিনে আরো মানুষ ই-কমার্সের আওতায় চলে আসছে। গোটা অর্থনীতিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে ই-কমার্স, এ কথা বলা যায় এখন অনায়াসেই। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে ই-কমার্সের আকার ছিল ৭০০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে ওই আকার বেড়ে হয়েছে এক হাজার কোটি টাকা। গত ২০১৭ সালে বাংলাদেশে ই-কমার্সের আকার এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের। নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই সেক্টরে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়।

 লক্ষ্য করুন
ই পত্রিকাও একটা পত্রিকা। পার্থক্য শুধু মাধ্যম।একটি পত্রিকা অফিসে যা যা দরকার ই পত্রিকা অফিসেও তাই হয়। পার্থক্য হলো ই পত্রিকার জন্য প্রেসে যেতে হয়না সেটা অনলাইনে যায়। পার্থক্যটা শুধু প্রকাশ মাধ্যমে।
ই কমার্স মোটেও ট্রাডিশনাল ব্যবসায়ের বাইরের কিছু নয়। প্রথাগত ব্যবসায় যা যা দরকার ই কমার্সের ক্ষেত্রেও সেসব প্রযোজ্য। আপনাকে পন্য ক্রয় করতে হবে, কিছু স্টক রাখতে হতে পারে, প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে, ওয়েবসাইটে পন্য প্রদমর্শণ করতে হবে, কাস্টমারের সাথে যোগাযোগ ও সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে। পার্থক্যটা শুধু আপনাকে অনলাইনে পেমেন্ট নিতে হবে, আর কুরিয়ারে পন্য সরবরাহ করতে হবে।

তাহলে আসুন আগে ব্যবসায় সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক
ব্যবসায়ের প্রথম কথা- ব্যবসায় এবং ব্যবসায়ী দুটো আলাদা সত্বা। আপনি নিজে একজন ব্যক্তি আর আপনার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বা ই ইকমার্স সেটা আরেকটা ব্যক্তিসত্তা। এখন আসুন যদি আমি ধরে নেই আপনার ই কমার্স শপ এর নাম শাপলা.কম।
প্রথম ব্যবসায় কিন্তু আপনার সাথে শাপলা.কম এর। কারণ আপনি শাপলা.কম কে একটা পুঁজি ও সার্ভিস দিবেন এই শর্তে যে শাপলা.কম প্রথমত আপনার পুঁজি ফেরত দেবে, দ্বিতীয়ত আপনার বেতন বা মূলধনের সূদ দেবে এবং তৃতীয়ত আপনাকে লাভও দেবে। যদিও আপনি নিজেই শাপলা.কম এর মালিক। তথাপি আপনার হিসেবের খাতা আর শাপলা.কমের হিসেবের খাতা কিন্তু আলাদা। আপনার খাতায় আপনি কার সাথে কতটাকা লেনদেন করছেন সেটা লেখা থাকে। লেখা থাকে আপনার দোকানের কাজে আপনি কতটাকা দিচ্ছেন সেটাও। আবার দোকানের খাতায় তার বিভিন্ন লেনদেন থাকে মালিক বা পাওণাদার হিসেবে লেখা থাকে আপনার সাথে দোকানের লেনদেনটাও। আপনি আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একজন পাওনাদার কারণ আপনি প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ স্বরুপ অর্থ দিয়েছেণ।
আরেকটা ব্যবসায় হলো শাপলা ডটকমের সাথে ক্রেতা সাধারনের। এখন আপনি দুটো ব্যবসায় সামলাতে হবে। আমরা কিন্তু প্রতিদিন একটা ব্যবসায় সামলাই যেটা আগে উল্লেখ করেছি। আমাদের দৈনিন্দিন প্রয়োজনে লেনেদেনে খাতিরে যে টাকা বিক্রি করে বেড়াই সেটা। সেই সাথে এই দুটো ব্যবসায়ের দেখার ব্যাপার আছে।
আবার যেহেতু আপনার সাথে শাপলা ডট কমের বা আপনার ই শপের একটা ব্যবসায় চলছে সেহেতু আপনাকে সব সময় হিসেব করতে হবে আপনি শাপলা ডটকমকে কত টাকা দিয়েছেন বা বিনিয়োগ করেছেন আর শাপলা ডটকম আপনাকে কতটাকা ফেরত দিচ্ছে বা দিবে।

কিন্তু তার আগে আপনাকে ব্যবসায়ের প্রাথমিক কিছু ব্যাপার জানা দরকার
প্রথমত অন্যসব কাজের মতো ব্যবসায়ে ক্ষেত্রেও তিনটা জিনিস প্রযোজ্য। আপনি কি করছেন? কিভাবে করছেন? আর কেন করছেন? এই তিনটা বিষয় আপনার কাছে পরিষ্কার হওয়া উচিত। আরো সহজ করে বললে আপনি কি বেচবেন, কিভাবে বেচবেন এবং কেন বেচবেন? এই তিনটা প্রশ্ন এবং সিদ্ধান্ত আপনার স্বচ্ছ থাকতে হবে।

কি বেচবেন: হ্যাঁ আপনি যে পন্যটি বেচবেন সেটা নিয়ে আপনার আদ্যপ্রান্ত জানা থাকা চাই। এটি কোথায় পাওয়া যায়, কারা উৎপাদন করে, কোন ষ্পট থেকে আনতে হয়, পরিবহন ও প্যাকিং প্রসেস কি? লাভের হার কেমন? বাজারে চাহিদা কেমন? এর বিকল্প ও সম্পুরক পন্য কি কি? আর এ পণ্যটিই আর কোন কোন প্রতিষ্ঠান কি কি পলিসিতে বাজারে বিক্রি করছে।

কেন বেচবেন?
হ্যা আপনি নিজেকে প্রশ্ন করে জেনে নিতে পারেন। আপনি কেন বেচবেন? সেটা যেন এমন না হয় শুধু পন্যটি সম্পর্কে আপনি খুব ভালো বোঝোন সেজন্য, সেটা যেন শুধু এমন না হয় পন্যটি বাজারে চাহিদা আছে সেজন্য, সেটা যেন শুধু এমন না হয় এতে ভালো লাভ থাকে অথবা এর ভবিষ্যৎ ভালো সেজন্য। বরং এই সবগুলো ব্যাপার যেন পন্য বা সেবাটির সাথে যুক্ত থাকে। এতে যতো ইতিবাচক বিষয় থাকবে আপনার কাজ তত সহজ হবে।

কিভাবে বেচবেন:

এখানে অবশ্যই বিশাল একটি পক্রিয়া জড়িত। প্রথমত আপনি ভোক্তাসাধারণকে জানাতে হবে যে আপনার কাছে পন্যটি আছে। দ্বিতীয়ত পন্যের ফিচার বা গুনাগুনও আপনি ভোক্তা সাধারণকে অবগত করতে হবে। আর সবচে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো আপনাকে কাস্টমারের কাছে সঠিক ধারণা দিতে হবে যে, এ পন্য কেন অন্য কারো কাছ থেকে না কিনে আপনার কাছ থেকে কিনবে? আপনি হয়তো কোয়ালিটিতে অন্যদের চেয়ে সেরা হবেন, নয়তো দামে, অথবা পন্যের সার্ভিস নিরাপত্তায়, অথবা সবদিক থেকে। তা না হলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আপনার টিকে থাকা কঠিন হবে বৈকি।

তারপর আপনার প্রচারণা দেখে যদি কোন ব্যক্তি আগ্রহী হয় তাকে কনভিন্স করে পন্যটি বিক্রি করা আপনার আসল চ্যালেঞ্জ। দক্ষ মার্কেটারদের বৈশিষ্ট্য হলো তাদের কাছে ক্লায়েন্ট একটি পন্য নিতে আসে তাহলে তাদের প্রেজেন্টশোনে ক্রেতা এতটাই সন্তুষ্ট হয় যে আরো দুটো পন্য অর্ডার করে যায়।
তারপর আসছে বিক্রয়োত্তর সেবা: মনে রাখবেন একজন ক্রেতা আপনার পন্যটিই শুধু কেনে না, কেনে সার্ভিসটাও। একজন মানুষ একটা টুথব্রাশ কেনার পর তিনি আশা করেন তিনি এটা ৬মাস ব্যবহার করতে পারেবন। এটা পন্যেও ৬ মাসের সার্ভিস। এমনকি এজকন মানুষ একটা জুস কেনার পর তিনি আশা করেন এটা তাকে ব্যাপক তুষ্টি ও পুষ্টি দেবে। এটাও একটা সার্ভিস। যদি অন্যথা হয় তাহলে আপনার ব্যবসার জন্য সেটা অশনি সংকেত। মনে রাখবেন বিক্রয়োত্তর সেবা দু‘রকম হয় । একটা হচ্ছে একজন আপনার কাছ থেকে একটা সিডি প্লেয়ার নিলো আর আপনি মেরামত বা রিপে¬স এর ওয়ারেন্টি গ্যারন্টি দিলেন। আরেকটা হলো আপনি প্রোডাক্টসটা বিক্রির সময় সকল প্রকার মানের নিশ্চয়তা দিলেন এবং সেটা বাস্তবে পরিনত হলো কাস্টমারের পন্যটি ব্যবহারে বা ব্যবহার করে কোন সমস্যা হলো না। এটাও এক ধরনের বিক্রয় পরবর্তী সেবা যদিও প্রচলিত অর্থে এটাকে বিক্রয় পরবর্তী সেবা বলেনা, কিন্তু আপনাকে পন্য উৎপাদন বিক্রি বা ডেলিভারীর সময় এই টেনশানটা নিতে হয় যে পন্যটি সঠিক সার্ভিসটা দেবেতো?

আর ই-কমার্স এর ক্ষেত্রে বাড়তি কয়েকটি বিষয়তো অবশ্যই খেয়াল করবেন, ১: পন্যের প্যাকিং, ২: ডেলিভারী সিসটেম, ৩: ইজি পেমেন্ট। এই তিনটি জিনিস পন্য ও কাস্টমার ফ্রেন্ডলী হওয়াটা জরুরী।

এখন আপনি কি বেচবেন? কেন বেচবেন এবং কিভাবে বেচবেন এ বিষয়গুলো অবগত হলেন। এসব বিষয় আবার স্থান কাল পাত্র ভেদে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে পারে। সেজন্য আমার দৃষ্টিতে আপনি আরো তিনটি পয়েন্ট অবশ্যই এড করে নেবেন সেগুলো হলো আপনি কখন বেচবেন? কোথায় বেচবেন? এবং কার কাছে বেচবেন?। এগুলো ই কমার্সের অপরিহার্য বিবেচ্য বিষয়? এবং এগুলো অবশ্যই আপনাকে ব্যবসায় শুরু করার আগেই জেনে বুঝে ঠিক করে নিতে হবে।
কখন বেচবেন: কিছু পন্য আছে সিজনাল কিন্তু মানুষের চাহিদা সবসময় থাকে। আবার পন্য আছে পন্যটি সবসময় পাওয়া গেলেও তা মানুষ সবসময় কেনেনা। সূতরাং সময়ের ব্যাপারটা আপনি ভুলতে পারেন না।
কোথায় বেচবেন: এবার আপনি হয়তো এককথায় উত্তর দেবেন যে ‘‘অনলাইনে’’। কিন্তু আপনি জানেন যে অনলাইন ভার্চুয়াল জগতে এখান থেকে হয়তো কাস্টমার পন্যটি পছন্দ করে কিন্তু আপনাকে শেষপর্যন্ত ফিজিক্যালী পন্যটি পৌঁছে দিতে হয়। তাই অবশ্যই কুরিযার সেবার শর্ত ও ব্যপ্তি সম্পর্কে জেনে নেবেন। জেনে নেবেন কাস্টমারের অবস্থানটা কারণ এটা আপনার জানা দরকার যে আপনার সার্ভিস এরিয়ার মধ্যে তিনি রয়েছেন কিনা?

কার কাছে বেচবেন:

আরেকটা অতিগুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্চে টার্গেট কাস্টমার মানে আপনার পন্য বা সেবাটি কাদের জন্য। যারা ২/৪ মাস ধরে ই কমার্স নিয়ে জানার চেষ্টা করছেন তারা হয়তো বিষয়টা ইতোমধ্যে জেনে থাকবেন। এবিষয়টা আপনার প্রতিটি ধাপে প্রয়োজন হবে। আপনি কোন প্রক্রিয়ায় প্রচারণা চালাবেন আপনার ব্রান্ডিং স্টাইল কি হবে এটা নির্ভর করছে আপনার টাগেট কাস্টমারের উপর।

এছড়া ইউজার ফ্রেন্ডলি ওয়েব ডিজাইন, আকষর্নীয় ছবি, ফোনলাইন, বিভিন্ন ধরনের পেমেন্ট অপশন এগুলো থাকার ব্যাপারটা তো অবশ্যই থাকতে হবে ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *